বুধবার (২২ নভেম্বর) ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা এলাকা থেকে ছাত্রীকে উদ্ধার ও অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, অপহরণের শিকার ওই কিশোরী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উপজেলার বিষ্ণপুর এলাকার ফয়েজ আহাম্মদের ছেলে ইয়াছিন আরাফাত তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বাড়িতে গিয়ে ছাত্রী বিষয়টি তার মাকে জানায়। তার মা ও পরিবারের সদস্যরা প্রতিকার চেয়ে বিষয়টি বখাটের বাবা-মাকে জানান। পরে ইয়াছিনকে তার মা-বাবা এমন কাজ থেকে বিরত থাকবে বলে। এতে ইয়াছিন ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রীকে বাড়ি গিয়ে অপহরণের হুমকি দেয়। পরে আবার ছাত্রীর মা ইয়াছিনের মা-বাবাকে বিষয়টি জানান। তারা ইয়াছিনকে ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করে।
.png)
গত ৮ নভেম্বর দুপুরে ছাত্রীটি স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুই বন্ধুর যোগসাজসে ওই ছাত্রীকে চেতনানাশক ওষুধ মেশানো কাপড় দিয়ে মুখ বেঁধে অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে ইয়াছিন ওই বাসায় বন্ধুর সহায়তায় রাতে ওই ছাত্রীকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে চারদিন আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
১৩ নভেম্বর ইয়াছিন ওই ছাত্রীকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে অপর এক বন্ধুর সহায়তায় কক্সবাজার সদর এলাকার একটি বাসায় নিয়ে যায়। পরে সেখানেও আটকে রেখে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ইয়াছিন। বুধবার সকালে আবারো ওই ছাত্রীকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ইয়াছিন একটি গাড়িতে করে কক্সবাজার থেকে ফেনীতে আসে। পরে ইয়াছিন গাড়ি থেকে নেমে ছাত্রীকে নিয়ে পাঁচগাছিয়া হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় ছাত্রী চিৎকার দিলে স্থানীয়রা দুজনকে আটক করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাগাজী মডেল থানার এসআই মো. জাহিদ হাসান বলেন, বুধবার দুপুরে ফেনী জেনারেল হাসাপাতালে ওই ছাত্রীর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। পরে বিকেলে ওই ছাত্রীকে ফেনীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমাতুজ্জোহরা মুনার আদালতে হাজির করে জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
জবানবন্দিতে তাকে ১৩দিন আটকে রেখে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে বন্ধুদের সহায়তায় ইয়াছিন ধর্ষণ করেছে বলে সে আদালতে জানায়। এরপর আদালতের নির্দেশনা মতে মেয়েটিকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার সকালে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে অপহরণ করে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে ইয়াছিন আরাফাত, তার সহযোগী সোহাগ হোসেন ও মনির হোসেনকে আসামি করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।