ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

৫০ বছরের ইমামতি শেষে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতি‌বেদক
প্রকাশিত: ০১:০৪, ২০ নভেম্বর ২০২৩
৫০ বছরের ইমামতি শেষে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা
ছবি: সংগৃহীত

বয়সের ভারে ন্যুব্জ উজ্জ্বল চেহারার মুখভর্তি সাদা দাড়িওয়ালা মাওলানা আব্দুর রব। দীর্ঘ ৫০ বছর ইমামতি করেছেন। গত শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) জুমার নামাজ পড়িয়ে ইমামতি থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি। এরপর সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে ফিরেছেন বাড়ি।

বিদায় বেলায় প্রিয় ইমামকে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছেন মুসল্লিরা। বিদায়ের দুদিন আগেই মসজিদসহ আশপাশের এলাকা সাজানো হয় আলোকসজ্জায়।

১৯৭৩ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব নেন মাওলানা আব্দুর রব। ৫০ বছর পর তার সুন্দর একটি অবসর অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পেরে আনন্দিত এলাকাবাসী। তার বিদায়কে স্বরণীয় করে রাখতে চেষ্টার কমতি ছিল না মুসল্লিসহ স্থানীয়দের।

Advertisement

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধনার পাশাপাশি দেওয়া হয় ৫ লাখ টাকার চেক। এছাড়াও বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয় ঘোড়ার গাড়িতে করে। এদিন মনোহরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ডুমুরিয়া গ্রাম পর্যন্ত মুসল্লিদের লম্বা বহর ছিল। এসময় আশপাশের অন্যান্য ৩০ জন ইমামকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন থেকেই হুজুর আমাদের মসজিদে ইমামতি করতেন। আমরা অনেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছি। হুজুরের শারীরিক বার্ধক্যের কারণে বিদায় দিতে হয়েছে, না হয় আরো রেখে দিতাম। আমরা চেষ্টা করেছি হুজুর দীর্ঘদিন ইমামতি করায় যথাযথ সম্মান জানাতে।

মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রব বলেন, আমি ৪২ বছর একটি স্কুলে ধর্ম বিষয়ে শিক্ষকতা করেছি। বয়স যখন ২৫ তখন মনোহরগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইমামতি শুরু করি। ৪০ টাকা বেতন পেতাম শুরুতে। সবশেষে ২০ হাজার টাকা।

দেখতে দেখতে ৫০ বছর কেটে গেল। আমার ১২ সন্তানকে লেখাপড়া করিয়েছি। তারা সবাই এখন প্রতিষ্ঠিত। চেষ্টা করেছি আল্লাহ-রাসুলের বাণী মুসল্লিদের সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার। জানি না কতটুকু পেরেছি। চাকরির শেষ দিনে আমাকে মুসল্লিরা যে সম্মান দেখিয়েছেন, তাদের জন্য আল্লাহর কাছে আমি দোয়া করি যেন সবাইকে তিনি সম্মানিত করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!