বুধবার নগরীর রুপাতলী র্যাব-৮ সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
এর আগে, মঙ্গলবার ভোররাত ৪টার দিকে বরিশাল নগরীর দুটি বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় তাদের দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় র্যাব ৮-এর মিডিয়া সেল।
.png)
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, রাজনৈতিক দলসমূহের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একটি মহল হামলা ও নাশকতার মাধ্যমে দেশে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ঘটনার পর র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। গোয়েন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে রনি ও আবিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রনির বরাতে খন্দকার মঈন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রনি জানিয়েছেন; তিনি একটি রাজনৈতিক দলের বরিশালের শীর্ষ পদে রয়েছেন। তার দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের নির্দেশে গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় এবং পরবর্তী সময়ে বরিশালের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে আগুন দেওয়াসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও পরিকল্পনা করেছেন। পাশাপাশি তার লোকজন দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসংযোগ বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে তার ভিডিও সংগ্রহ করে দেশে ও দেশের বাইরে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কাছে পাঠিয়েছেন।
তার ব্যবহৃত মোবাইল চেক করে কানাডা, ইউকেসহ দেশের বাইরের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের নম্বরসহ বিরোধী (নিজ) দলের শীর্ষ নেতাদের নম্বর সেভ পাওয়া গেছে। সেই নম্বরে যানবাহনে আগুন দেওয়াসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ভিডিও পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সে ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এর পেছনে সে তিনটি কারণ জানিয়েছেন, যার মধ্যে একটি হলো তিনি দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কাছে তার দৃঢ় অবস্থান প্রমাণ করা অর্থাৎ মাঠে থেকে তিনি যে নাশকতা ও সহিংসতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন, শীর্ষ নেতাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন সেগুলো নিশ্চিত করা আর একটি হলো সাধারণ জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা।
গ্রেফতারকৃত আবির রেজাউল করিম রনির সহযোগী। তিনি রনির নির্দেশে বরিশাল মহানগরের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও মহাসড়কে গণপরিবহন, ব্যক্তিগত যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে রাস্তা অবরোধসহ চোরাগুপ্তা হামলায় অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে পূর্বের ৫টিসহ গত ২৮ অক্টাবরের পর ঢাকা ও বরিশালের বিভিন্ন নাশকতার মামলার আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হবে। তাদেরকে থানায় হস্তান্তরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসাইন বলেন, রেজাউল করিম রনিকে এখন পর্যন্ত র্যাব হেফাজত থেকে থানায় সোপর্দ করা হয়নি।