জানা যায়, মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউপির টিভি হাসপাতাল এলাকার বর্ষিজোড়া গ্রামে মো. চেরাগ মিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী নুরুল ইসলামের ঝগড়া হয়। নুরুল ইসলামের দাবি, তার ছবি ব্যবহার করে চেরাগ মিয়া ফেইক আইডি চালাচ্ছেন। এর ঘটনার জেরে শুরু হয় হাতাহাতি। একপর্যায়ে চেরাগ মিয়ার ছেলে রেজাউল করিম নাঈমকে অস্ত্র দিয়ে আহত করেন নুরুল ইসলাম, তার ছেলে রনি মিয়া ও সহযোগীরা। এতে নিজ বাড়িতেই নাঈমের রক্তক্ষরণ হয়। নাঈমের বাবা-মা তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হলে তার মৃত্যু হয়। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে পরিবারে সবার বড় নাঈম। সে এ বছর মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছে। এ ঘটনায় নাঈমের বাবা ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
আসামিরা হলেন বর্ষিজোড়া এলাকার নুরুল ইসলাম, তার ছেলে রনি মিয়া, কাদির মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন, ইদন মিয়ার ছেলে সোহান মিয়া, আব্দুল আজিজের ছেলে মো. সাইমন ইসলাম, ইদন মিয়ার ছেলে ইমন মিয়া, আলামিন মিয়া, সাকিল হোসেন, প্রধান আসামি নুরুল ইসলামের স্ত্রী পারভিন বেগম ও মেয়ে জেসি আক্তার সহ অজ্ঞাত ৪-৫জন।
.png)
নাঈমের বাবা মো. চেরাগ মিয়া বলেন, আমার প্রতিবেশী নুরুল ইসলামের সঙ্গে আমাদের কোনো পূর্বশত্রুতা নেই। বিকেলেও আমার বাড়িতে এসে চা খেয়েছেন। সন্ধ্যার পর তিনি আমাকে এসে বলেন আমি নাকি তার ছবি দিয়ে আইডি চালাচ্ছি। সেই সময় পাশের রুমে আমার ছেলে ছিল। সে এসে বলেছে ফেইক আইডিকে খুলেছে আমাকে দেখান। এখন প্রযুক্তির যুগ এগুলো বের করা যায়। একথা বলতেই তার ওপর ক্ষেপে যায় নুরুল ইসলাম। এরপর শুরু হয় আমাদের মারধর। একপর্যায়ে নুরুল ইসলামের ছেলেসহ আরো ১২ থেকে ১৫ জন এসে পড়ে। আমার ছেলে, তার মা, চাচি, বোন ভয়ে অন্যরুমে লুকিয়ে যায়। তারা রুমের দরজা ভেঙে আমার ছেলেকে ধরে এসে ধারালো চাকু দিয়ে কুপায়। আমার চোখের সামনে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। তারা চেয়েছিল আমার বাড়িতে লুটপাট ও ডাকাতি করবে, না পেরে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।
এ ঘটনায় বর্ষিজোড়া এলাকায় চলছে শোকের মাতম। বুধবার রাতে মৌলভীবাজার শহরের দরগাহ জামে মসজিদের প্রাঙ্গণে নাঈমের জানাজা শেষে দাফন করা হয়।
মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় নিহতের বাবা মৌলভীবাজার মডেল থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ এজাহারভুক্ত ৫ নম্বর আসামি সাইমন ইসলামকে আটক করেছে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।