ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পরিচয় মিলল সন্তান প্রসব করা সেই প্রতিবন্ধী তরুণীর  

মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৩:৫৪, ৮ নভেম্বর ২০২৩
পরিচয় মিলল সন্তান প্রসব করা সেই প্রতিবন্ধী তরুণীর  
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউপির দেবীপুর গ্রামে আশ্রয় নেয়ার পর সন্তান প্রসব করেন বাকপ্রতিবন্ধী এক তরুণী। সন্তান প্রসবের এক মাস পর ওই তরুণীর পরিচয় মিলেছে।  

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর ওই তরুণীর পরিবার খুঁজে পেলাে তাদের হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে। মেয়ের সদ্য ভূমিষ্ট কন্যা সন্তানকেও আপন করে নিল পরিবার।

স্থানীয়রা জানান, গত ১৪ অক্টোবর দেবীপুর গ্রামের দিন মজুর বাবার বাকপ্রতিবন্ধী এক তরুণীকে গর্ভ অবস্থায় বাড়ির পাশে রাস্তায় ঘােরাঘুরি করতে দেখেন মহাসিন। এ সময় ওই তরুণীকে তিনি বাড়িতে নিয়ে খাবার খেতে দেন। খাবার খাওয়ার পর তরুণী যেনাে মহাসিনের পরিবারকে আপন করে ফেলেন। আশ্রয় নেয়ার কয়েকদিন পর তরুণীর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। এ সময় মহাসিন ডাক্তারের কাছেও চিকিৎসা দিতে নিয়ে যান। চিকিৎসা নেয়ার একদিন পর মহাসিনের বাড়িতেই কন্যা সন্তান প্রসব করেন ওই তরুণী। সন্তান প্রসবকারী ওই মা বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে তার সন্তানের বাবা কে তা বলতে পারেনি। শেষমেষ মহাসিন আলী তার আশ্রয়ে ওই মা ও সন্তানকে দেখভাল করে আসছিলেন। মহাসিন আলী শিশুকন্যাকে আদর করে নাম রাখেন ফাতেমা খাতুন। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম সংবাদ প্রচার হওয়ায় সন্তান প্রসবকারী মায়ের পরিচয় মিলেছে। ওই তরুণী নেত্রাকােনা জেলার মদন উপজেলার কুলিয়াটি গ্রামের মেয়ে। গত দেড় বছর আগে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে না যাওয়ায় খােঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয় তার পরিবার। কয়েকদিন আগে কয়েকটি গণমাধ্যম সংবাদ প্রচারের পর ওই তরুণীর পরিবার তাকে চিনতে পেরে আশ্রয়দাতা মহাসিনের বাড়িতে হাজির হয়। 

Advertisement

বুধবার (৮ নভেম্বর) গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রীতম সাহা উপস্থিত থেকে ওই তরুণী ও তার কন্যা সন্তানকে আত্মীয়দের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজ সমাজসেবা কর্মকর্তা আরশেদ আলী, বামন্দী ইউপি চেয়ারম্যান ওবাইদুর রহমান কমলসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

ইউএনও প্রীতম সাহা বলেন, আমরা সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে যখন সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠাবো। ঠিক তার একদিন আগে খবর পাই তার পরিবারের সন্ধান মিলেছে। এটা সবার জন্য আনন্দের খবর। আর আশ্রয়দাতা দিনমজুর মহাসিন আলী ও তার স্ত্রী জোসনা খাতুনকে ধন্যবাদ জানাই বাক প্রতিবন্ধী ও শিশু কন্যাকে আশ্রয় দিয়ে মহত্বের পরিচয় দেওয়ার জন্য। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: মেহেরপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!