প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরেও মোংলা থেকে জেলেরা নৌকা সাজিয়ে সমুদ্রের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) মোংলার ১ নম্বর জেটি এলাকা থেকে মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে রওনা দিয়েছেন জেলেরা। সুন্দরবন বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে জেলেরা সুন্দরবনের দুবলার চরসহ অন্যান্য চরে গিয়ে আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত অবস্থান করবেন।
দুবলায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে জেলেদের এক গ্রুপ চরে ঘর বাঁধতে শুরু করেছেন। আর অপর গ্রুপ সাগরে মাছ ধরতে নেমে পড়েছেন। জেলেদের ফেলা জালের প্রথম খেপের মাছও চলে এসেছে চরে। সেগুলো বেছে চরে শুকাতেও দিয়েছেন জেলেরা। দুবলার চরে লইট্টা, ছুরি, চিংড়ি, লাক্ষা, জাবা, পোয়া মাছ থেকে তৈরি করা হয় শুঁটকি।
.png)
এর আগে উপকূলের জেলেরা শুঁটকি মৌসুমকে ঘিরে নিজ নিজ এলাকায় তাদের জাল, নৌকা মেরামত ও সব সরঞ্জামাদি প্রস্তুত করেন। এরপর বিভিন্ন এলাকার জেলেরা দুবলার উদ্দেশে জড়ো হন মোংলায়।
বনবিভাগ জানায়, ৩ নভেম্বর থেকে বঙ্গোপসাগর পাড়ে সুন্দরবনের দুবলার চরে শুরু হয়েছে শুঁটকি মৌসুম। এ শুঁটকি মৌসুম চলবে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত। টানা পাঁচমাস সেখানে থাকতে হবে জেলেদের। সাগর পাড়ে গড়তে হবে জেলেদের অস্থায়ী থাকার ঘর, মাছ শুকানো চাতাল ও মাচা। সেসব তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে না সুন্দরবনের কোনো গাছপালা। তাই বনবিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী দুবলার চরের উদ্দেশ্যে যাত্রার প্রস্তুতি নেয়া জেলেদের সঙ্গে নিতে হচ্ছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (সদর) রানা দেব বলেন, শুঁটকি মৌসুমকে ঘিরে উপকূলের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১০হাজার জেলে সমবেত হবেন দুবলার চরে। দুবলার চরের ওই সকল জেলেরা প্রায় দেড় হাজার ট্রলার নিয়ে মাছ ধরবেন গভীর সাগরে। সাগর থেকে আহরণ করা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বাছাই করে শুঁটকি করবেন তারা।
তিনি আরো বলেন, এ বছর চরে জেলেদের থাকা ও শুঁটকি সংরক্ষণের জন্য এক হাজার ১০৮টি জেলে ঘর ও ৭৮টি ডিপো স্থাপনের অনুমতি দিয়েছেন বনবিভাগ। গত শুঁটকির মৌসুমে দুবলার চর থেকে বনবিভাগের রাজস্ব আদায় হয়েছিল ছয় কোটি টাকা। এবার টার্গেট ধরা হয়েছে সাত কোটি টাকা।