ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মুহিবুল্লাহ হত্যায় সরাসরি অংশ নেন রোহিঙ্গা সমিউদ্দিন

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:২১, ১৭ অক্টোবর ২০২৩
মুহিবুল্লাহ হত্যায় সরাসরি অংশ নেন রোহিঙ্গা সমিউদ্দিন
গ্রেফতার নুর কামাল ওরফে সমিউদ্দিন (মাঝে)- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বহুল আলোচিত রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যায় সরাসরি অংশ নেন নুর কামাল ওরফে সমিউদ্দিন। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে ৭টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

রোববার মধ্যরাতে গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান, ‌‌র‍্যাব-১৫ কক্সবাজারের কুতুপালং এলাকার একটি পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে মহিবুল্লাহ হত্যার সমন্বয়কারী ও বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারী আরসার কিলার গ্রুপের প্রধান নুর কামাল ওরফে সমিউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়।

Advertisement

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সমিউদ্দিন জানিয়েছেন, মুহিবুল্লাহকে হত্যা করতে খুব কাছ থেকে গুলি চালান তিনি। তারপর ফাঁকা গুলি করতে করতে আত্মগোপনে চলে যান। সেখান থেকে পালিয়ে মিয়ানমারের আরসা ঘাঁটিতে দীর্ঘদিন থাকেন। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে একের পর এক আরসা কমান্ডার গ্রেফতার হওয়ায় কিলিং গ্রুপের প্রধান হিসেবে তাকে আবারো ক্যাম্পে পাঠানো হয়।

সমিউদ্দিন ২০১৬ সালে মিয়ানমারে অবস্থানের সময় আরসার কমান্ডার আব্দুল হালিম, মাস্টার নুরুল বশর ও আবু আনাসের মাধ্যমে আরসায় যোগ দেন এবং মিয়ানমারে আরসার হয়ে এ বছর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নেন। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে শরণার্থী ক্যাম্প-৭ এ বসবাস শুরু করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে সমিউদ্দিন আরো জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে আরসার কমান্ডার মুফতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে আবারো আরসার নতুন করে সদস্য সংগ্রহ, লোকবল বৃদ্ধিসহ সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেন। ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আরসার ব্লক জিম্মাদার, হেড জিম্মাদার এবং সর্বশেষ ক্যাম্প কমান্ডার হিসেবে নেতৃত্ব লাভ করেন।

আরসাপ্রধান আতাউল্লাহর নির্দেশে আরসার ভয়ঙ্কর ও সক্রিয় সদস্যদের নিয়ে ২০ জনের একটি কিলার গ্রুপ তৈরি করেন। ঐ গ্রুপের প্রধান হিসেবে সমিউদ্দিন নিজে দায়িত্ব পালন করতেন।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা আরো জানান, আরসাপ্রধান আতাউল্লাহর নির্দেশে সমিউদ্দিন ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের সমন্বয়ক ও সরাসরি অংশ নেন। সমিউদ্দিনসহ প্রায় ১২ জনের একটি দল দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মাস্টার মহিবুল্লাহর অফিসে প্রবেশ করে গুলি করে হত্যা করেন। পরবর্তীতে সেখান থেকে তারা আত্মগোপনে চলে যান। এছাড়া মাঝি শফিক, জসিম, সেলিম, নুর বশর, সালাম, সলিম, কালা বদ্দা, রহিমুল্লাহ এবং আ. খালেদ হত্যাকাণ্ডেও জড়িত ছিলেন তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!