বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) কুয়াকাটা সৈকতে বসে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রুহুল মোল্লার বখাটে ছেলে হৃদয় মোল্লার সঙ্গে পরিচয় হয় বরিশাল থেকে আসা বাঁধন সাহাসহ তার তিন বন্ধুর। কৌশলে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করে রাত্রিযাপন করে হোটেল বিচ ডোরে। রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে হৃদয় মোল্লা পর্যটকদের মোবাইল , ডিএসএলআর ক্যামেরা ও নগদ ৩২ হাজার টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায়।
শুক্রবার (৬ অক্টোবর) সকালে তারা হৃদয় মোল্লাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোথাও না পেয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। এরপর ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। এ ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হৃদয় মোল্লাকে গ্রেফতার করে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ।
.png)
ভুক্তভোগী পর্যটকরা বলেন, ‘আমরা সৈকতে বসাছিলাম। তখন হঠাৎ করে এসেই আমাদের সঙ্গে গল্প করতে শুরু করে হৃদয় মোল্লা। কুয়াকাটার স্থানীয় বলায় আমরাও তার সঙ্গে দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ সংক্রান্ত বিষয়ে আলাপ করি। সে আমাদের সঙ্গে খুব ভালো আচরণ করায় আমরা তাকে রাতের খাবারের নিমন্ত্রণ করি। পরে আমাদের সঙ্গে হোটেলে যায় এবং খাবার খেয়ে রাতে আমরা ঘুমিয়ে পড়লে আমাদের ক্যামেরা, মোবাইল এবং টাকা নিয়ে সে পালিয়ে যায়।’
কুয়াকাটা হোটেল বিচ ডোরের ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার বরিশাল থেকে আসা চারজন পর্যটক আমাদের হোটেলের ২০৪ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নেয়। রাতে তাদের সঙ্গে হোটেলে স্থানীয় একটি ছেলে আসে। সকালে শুনি তাদের মালামাল নিয়ে পালিয়ে গেছে ওই ছেলে। আমি সঙ্গে সঙ্গে ট্যুরিস্ট পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করি।
শনিবার দুপুরে ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোন পুলিশ পরিদর্শক হাচনাইন পারভেজ।
তিনি জানান, পর্যটকদের সঙ্গে হৃদয় কৌশলে সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে তাদের কক্ষে রাত কাটানোর কথা বলে তিনি। ভোরে পর্যটকদের ডিএসএলআর ক্যামেরা, ৩২ হাজার টাকা ও একটি স্মার্ট ফোন নিয়ে পালান তিনি।
তিনি আরো বলেন, এর আগেও তার নামে টাকা চুরির অভিযোগ রয়েছে। এটা তার পেশা। গ্রেফতার হৃদয় মোল্লাকে শনিবার কলাপাড়া আদালতে পাঠানো হয়েছে।