ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৬ বছরে প্রায় ৩ লাখ শিশুর জন্ম

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:২২, ৬ অক্টোবর ২০২৩
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৬ বছরে প্রায় ৩ লাখ শিশুর জন্ম
ফাইল ফটো

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দৈনিক ১২০-১৩০ শিশু জন্ম নিচ্ছে। গত ৬ বছরে প্রায় দুই লাখ ৮০ হাজার শিশু জন্ম নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের এমন ঊর্ধ্বমুখী জন্মহারসহ তাদের নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে উৎকণ্ঠায় আছেন স্থানীয়রা। ক্যাম্পে দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, অল্প বয়সে বিয়ে ও একাধিক বিয়েতে আবদ্ধ হওয়ায় রোহিঙ্গাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সর্বাধিক।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আশ্রয়শিবিরগুলোতে মোট পরিবার রয়েছে প্রায় আড়াই লাখের মতো। এর মধ্যে ৫২ শতাংশই শিশু।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয় জানিয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০-১৩০ শিশু জন্ম নিচ্ছে। এরই মধ্যে গেল ছয় বছরে তিন লাখের কাছাকাছি শিশু জন্ম নিয়েছে।

Advertisement

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা। এদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা ছিল বেশি। এর আগে ৯০-এর দশকেও অনেক রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। সব মিলিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছে ১৫ লাখের কাছাকাছি রোহিঙ্গা।

উখিয়ার কুতুপালংয়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মিডওয়াইফারি সুপারভাইজার আসমা আকতার বলেন, রোহিঙ্গারা জন্মনিরোধক পিল, কনডম ব্যবহার করতে চায় না। কারণ, রোহিঙ্গারা মনে করে, সন্তান যত বেশি জন্ম নেবে তারা মাথাপিছু রেশন তত বেশি হবে। এজন্য রোহিঙ্গারা সন্তান জন্মদানে বেশি আগ্রহী।

একই ক্যাম্পের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. ফাতেমা আকতার বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে সন্তান জন্মদানের প্রবণতা অনেক বেশি। তাদের কোনো কাজ নেই। সেহেতু তাদের বিনোদনের ব্যবস্থা হচ্ছে সন্তান নেয়া।

এদিকে, কক্সবাজার জেলার মোট জনসংখ্যা প্রায় ২৬ লাখের মতো। এখন ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের বেশি। যা নতুন করে ভয়াবহ সংকট হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

উখিয়ার রাজাপালং ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের যদি কন্ট্রোল করা না যায়, তাহলে দেশের জন্য বিষফোঁড়া তো হয়েছে, কিছুদিন পর এ সমস্যা আরো বড় আকার ধারণ করবে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্মহার বাংলাদেশিদের চেয়ে অনেকগুণ বেশি। পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!