ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সন্তানকে ঘিরে ছিল অনেক স্বপ্ন, জন্মের সাতদিন পর মায়ের মৃত্যু

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:৩৫, ৫ অক্টোবর ২০২৩
সন্তানকে ঘিরে ছিল অনেক স্বপ্ন, জন্মের সাতদিন পর মায়ের মৃত্যু
গ্রাফিক্স: ডেইলি বাংলাদেশ

গর্ভের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই অনেক স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন সোমা আক্তার (২৬)। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর ঐ সন্তানকে কীভাবে পরিচর্যা করবেন। কোন স্কুলে পড়াবেন, অনেক বড় করে তুলবেন এইসব নিয়ে ভাবনার শেষ ছিল না তার। ঐ স্বপ্ন আর ভাবনার কথা তার স্বামীকে বলতেন।

সাতদিন আগে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাসপাতালে স্বপ্নের সেই শিশুটির জন্ম দেন। নিজেই শিশুটির নাম রাখেন ওয়াজিহা নূর। কিন্তু স্বপ্ন রেখে নিজেই হারিয়ে গেলেন সোমা। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বুধবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে হাসপাতালে তিনি মারা যান।

সোমা আক্তার গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার বহেরারচালা গ্রামের আল আমিনের স্ত্রী। সোমা আক্তারের সাত বছরের আরো এক মেয়ে রয়েছে। তার নাম আবিদা বিনতে আনিসা।

Advertisement

সোমা আক্তারের দেবর ইকবাল হোসেন সবুজ বলেন, গত ২৭ সেপ্টেম্বর শ্রীপুর পৌর এলাকার একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এক কন্যাশিশুর জন্ম দেন সোমা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন তারা। ঐদিন রাত থেকেই সোমার জ্বর। এরপর থেকেই ওষুধে জ্বর কমানোর চেষ্টা করেন। অবস্থার অবনতি হতে থাকলে বুধবার সকালে তাকে আবার একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তিনি আরো বলেন, সেখানে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা দেন। পরীক্ষার রিপোর্টে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য দুপুরে সোমাকে ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেলে তিনি মারা যান।

বুধবার রাতে মৃতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকে স্তব্ধ পুরো পরিবার। বড় মেয়ে আনিসাকে জড়িয়ে ধরে নিজেই ফুঁপিয়ে কাঁদছেন আল আমিন। এরপরও বড় মেয়ের মাথায় চুমো দিয়ে বারবারই বলছেন, ‘শক্ত হও মা। মায়ের জন্য দোয়া করো। আল্লাহ যেন তোমার মাকে বেহেস্ত নসিব করেন।’  দুই হাত দিয়ে বড় মেয়েটির চোখের অশ্রু মুছিয়ে দেওয়ার সময় তার নিজের দুই চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছিল।

স্বজনরা জানান, সাতদিনের শিশুটি এখন তার নানির কাছে রয়েছে। ঐ গ্রামেই শিশুটির নানাবাড়ি। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, শিশুটির নানা-নানি কাঁদছেন। কখনো শিশুটিকে নানি, কখনো-বা নানা কোলে তুলে নিচ্ছেন। কোলে নিয়ে শিশুটির নানি হিরামনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ‘আল্লাহ গো! এ কী অইলো!’

সোমা আক্তারের স্বামী আল আমিন বলেন, ‘শিশুটি গর্ভে আসার পর থেকেই তাকে নিয়ে আমার স্ত্রীর নানা স্বপ্ন বুনতেন। শিশুটিকে কীভাবে পরিচর্যা করবেন তা নিয়ে অনেক পরিকল্পনা তাকে বলতেন। শুধু তাই নয়, ঐ শিশুকে কোন স্কুলে পড়াবেন, তাকে অনেক বড় করে তুলবেন বলে জন্মের আগেই তার ভাবনার কথা বলতেন। তার ঐসব কথা শুনে তখন হাসতাম’।

কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি আরো বলেন, জন্মের পর শিশুটির নামও রেখেছেন আমার স্ত্রী। ‘ওয়াজিহা নূর’-নামটি আগেই তার ঠিক করা ছিল। যে শিশুটিকে নিয়ে এত স্বপ্ন ছিল তার (সোমা)। সেই স্বপ্ন রেখে নিজেই হারিয়ে গেলেন’।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!