ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বন্ধুর স্ত্রীর রান্না করা সেমাই খেয়ে কবিরাজকে গলাকেটে হত্যা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৪৫, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩
বন্ধুর স্ত্রীর রান্না করা সেমাই খেয়ে কবিরাজকে গলাকেটে হত্যা
আল আমিন ভান্ডারিকে হত্যার ঘটনায় স্বজনদের আহাজারি -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় আল আমিন ভান্ডারি (৪৮) নামে এক কবিরাজকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার সকালে ফতুল্লা মডেল থানার ধর্মগঞ্জ চতলার মাঠ এলাকার মৃত তৈয়ুব আলী মেম্বারের বাড়ির নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে।

একই দিন দুপুরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায় পুলিশ। নিহত আল আমিন ভান্ডারি পিরোজপুর জেলার সদর থানার দক্ষিণ পুকুরিয়ার হারুনুর রশীদের ছেলে। 

নিহত আল আমিন ভান্ডারি পেশায় একজন কবিরাজ। তিনি তার তৃতীয় স্ত্রী ও প্রথম সংসারের পুত্রকে নিয়ে ধর্মগঞ্জ চতলার মাঠ এলাকার মৃত তৈয়ুব আলী মেম্বারের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করতেন।

Advertisement

নিহতের ভাই আলিম শেখ জানান, আল আমিন ভান্ডারি বর্তমানে কবিরাজি করলেও এক সময় জাহাজে বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন। তিন বছর পূর্বে তিনি জাহাজের চাকরি ছেড়ে দিয়ে নোয়াখালী তার শ্বশুরবাড়ি এলাকায় বসবাস করতে শুরু করেন। দেড় বছর পূর্বে তিনি ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ চতলার মাঠ এলাকায় এসে বসবাসের পাশাপাশি কবিরাজি শুরু করেন। জাহাজে চাকরিকালীন সময়ে একই জাহাজে কর্মরত হাফেজ মাস্টার নামে একজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে হাফেজ মাস্টার প্রায় সময় তার ভাইয়ের নিকট আসতেন এবং রাত্রিযাপন করতেন। 

বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে হাফেজ মাস্টার তার ভাইয়ের নিকট আসেন। সঙ্গে একটি কালো ব্যাগও ছিল। তখন তার ভাই আল আমিন ভান্ডারি স্ত্রী ও ছেলেকে পাশের রুমে ঘুমানোর জন্য বলেন। রাত ৪টার দিকে আল আমিন ভান্ডারি তার স্ত্রীকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে ভাত নিজ রুমে দিতে বলেন। সঙ্গে সেমাই রান্না করে নিয়ে আসতে বলেন। রান্না করা ভাত এবং সেমাই খেয়ে আল আমিন ভান্ডারি নিজ রুমের দরজা লাগিয়ে হাফেজ মাস্টারকে নিয়ে শুয়ে পড়েন। সকাল ৮টার দিকে স্ত্রী দরজা খোলা দেখতে পেয়ে উঁকি মেরে দেখেন; খাটের ওপর রক্তাক্ত দেহ পড়ে রয়েছে।

তিনি আরো জানান, তার ভাইয়ের সঙ্গে থাকা হাফেজ মাস্টার ৪টার পর কোনো এক সময়ে তার ভাইয়ের গলাকেটে হত্যার পর পালিয়ে গেছেন। এ সময় হাফেজ মাস্টার সঙ্গে নিয়ে গেছেন তার ভাইয়ের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল।

ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মফিজুল ইসলাম নিহত আল আমিনের স্ত্রী রোকসানার বরাত দিয়ে জানান, নিহতের পূর্ব পরিচিত হাফেজ মাস্টার রাত ১০টার দিকে বাসায় আসেন। পরে রাত ১টার দিকে তাকে নিয়ে নিহতের শাশুড়িকে গ্রামের বাড়ি নেয়াখালীতে যাওয়ার জন্য পঞ্চবটী বাসট্যান্ড থেকে বাসে তুলে দেন। সেখান থেকে তারা নদীর ঘাটে যান। পরবর্তীতে রাত ৩টার দিকে বাসায় এসে স্ত্রীকে বলেন, তিনি অসুস্থ-বোধ করছেন এবং মাথা ঝিমুনি দিচ্ছে। তিনি ভাত খেয়ে মেহমান হাফিজের জন্য খাবার নিজ রুমে স্ত্রীকে দিয়ে আসতে বলেন। স্ত্রী খাবার দিয়ে এসে দরজার বাইরে সিঁড়িতে বসে থাকলে তাকে গালমন্দ করে শালিকার ঘরে পাঠিয়ে দেন। পরে তিনি দরজা লাগিয়ে দেন। রোকসানা আল আমিন ভান্ডারির তৃতীয় স্ত্রী। গত রমজানের ঈদের পর রোকসানাকে বিয়ে করেন আল আমিন। 

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি নূরে আযম মিয়া (পিপিএম) জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনসহ এর সঙ্গে জড়িত খুনিকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

সংবাদ পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) এসএম জহিরুল হক, ফতুল্লা মডেল থানার ওসি নূরে আযম মিয়া (পিপিএম), পরিদর্শক (তদন্ত) তসলিম উদ্দিন, এএসআই হারেস শিকদার, মফিজুল ইসলামসহ পিবিআই সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!