হাটের দিনগুলো উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা কবুতর প্রেমীদের পদচারণায় মুখর থাকে। এখানে কেউ কবুতর আনেন বিক্রি করতে, আবার কেউ কেনেন সাধ্যের মধ্যে পছন্দের কবুতর।
জানা যায়, লালমোহন পৌরশহরের কামারপট্টিতে বসা কবুতরের হাটে পাওয়া যায় অন্তত ১০ জাতের কবুতর। এর মধ্যে রয়েছে- কিং, ময়ুরী, চিলা, মুক্ষি, লাক্ষা, সিরাজী, লাহোরী, গিরিবাজ, বোম্বাই এবং দেশি জাতের কবুতর। জাত অনুযায়ী প্রতি জোড়া কবুতরের সর্বনিম্ন দাম চারশত এবং সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা রয়েছে।
.png)
উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর এলাকার আব্দুল মালেক। তিনি বিগত কয়েক বছর ধরে কবুতর পালছেন। পৌরশহরের কবুতরের হাটে তিনি দুই জোড়া দেশি জাতের কবুতর বিক্রি করতে নেন। দাম হাঁকেন এক হাজার ২০০ টাকা। তার ঐ এক জোড়া কবুতর নয়শত টাকায় কিনে নেন এক ব্যক্তি।

লালমোহন পৌরসভার ওয়েস্টার্ন পাড়া এলাকার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রাফি। হাটে আসেন কবুতর কিনতে। রাফি বলেন, শখের বশে বাড়িতে কবুতর পালছি। বর্তমানে ১০ জোড়া কবুতর আছে। হাটে এসেছি নতুন করে আরো এক জোড়া কবুতর কিনতে।
পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ৪ জোড়া কবুতর বিক্রি করতে হাটে আনেন মো. হাছনাইন নামে এক যুবক। তিনি বলেন, আমার কাছে কয়েক জাতের কবুতর রয়েছে। এরমধ্যে সর্বনিম্ন এক জোড়ার কবুতর দেড় হাজার টাকা আর সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা। কবুতর একটি বাড়তি আয়ের উৎস। এজন্য দীর্ঘদিন ধরেই কবুতর পালছি।
এদিকে লালমোহনের এই হাটে কবুতর কিনতে আসেন মো. আমির নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, খুব সহজে কবুতর পালন করা যায়। তাই পার্শ্ববর্তী লোকজনের দেখাদেখি নতুন করে কিছু কবুতর পালা শুরু করবো। এজন্য লালমোহনের এ হাটে এসেছি কবুতর কিনতে।

লালমোহন কবুতর হাটের ইজারাদার মো. নাছির উদ্দিন জানান, প্রতি সপ্তাহে দুইদিন এখানে কবুতরের হাট বসে। প্রতি হাটে ৭০ থেকে ৮০ জোড়া কবুতর বিক্রি হয়। টাকার হিসেবে সপ্তাহের দুই হাটে যার পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার টাকা। যেখান থেকে আমরা শতকরা আট টাকা হারে ইজারা নিয়ে থাকি।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. লোকমান বলেন, কবুতরকে বলা হয় শান্তির প্রতীক। সঠিকভাবে কবুতর পালন করলে কম পরিশ্রমে অধিক লাভবান হওয়া যায়। কবুতর পালতে গিয়ে কারও কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের দায়িত্বরত ব্যক্তিরা সব সময় তাদের পাশে থাকবে।