স্থানীয়রা জানান, মারা যাওয়ার আগে রহিতন বেগমের নামে ১৬৫ শতাংশ জমি লিখে দেন স্বামী মোসলেম উদ্দিন। বিল্লাল হোসেন, মমতাজ বেগম, বেদানা বেগম, দেলোয়ার হোসেন ও অঙ্গুরি বেগম নামে তাদের পাঁচ সন্তান। এরমধ্যে কৌশলে বেদানা বেগম ও অঙ্গুরি বেগম মায়ের সব জমি লিখে নেন। অন্য সন্তানরা এর বিরোধিতা করেন। এরপর থেকে শুরু হয় পারিবারিক দ্বন্দ্ব। এ নিয়ে একাধিকবার শালিসও হয়েছে। শালিসে বেদানা ও অঙ্গুরি বেগম অঙ্গীকার করেন তারা মায়ের ভরণপোষণ ও সেবাযত্ন করবেন। কিন্তু বাস্তবে বৃদ্ধা মা নানা অবহেলার শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে বেদানা বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট ছাপড়া ঘরের এক পাশে ছাগল আর আরেক পাশে চৌকির এক কোণে শুয়ে আছেন রহিতন বেগম। অন্ধকার আর স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে নেই আলো বাতাসের ব্যবস্থা। পরনে শুধু এক টুকরো কাপড়। মলমূত্র ছড়িয়ে আছে চৌকি আর ঘরের মেঝেতে। শরীরে কয়েকস্থান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। তিনি কোনো কথা বলতে পারেন না। মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে শুধু অসহায়ের মতো ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। কিছুক্ষণ পর সেখানে উপস্থিত হন বৃদ্ধার আরেক মেয়ে অঙ্গুরি বেগম। মায়ের ছবি তোলায় দুই মেয়ে চড়াও হয়ে ওঠেন সাংবাদিকদের ওপর। সঙ্গে যোগ দেন তাদের স্বামী-সন্তানরাও।
.png)
রহিতন বেগমের বড় মেয়ে মমতাজ জানান, তার দুই বোন ও তাদের স্বামীরা মাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি লিখে নিয়েছেন। জমি নেয়ার পর থেকে তার ওপর নির্যাতন করতে থাকেন। ভরণপোষণ ও সেবাযত্ন করার নামে তাকে ছাগলের ঘরে আশ্রয় দিয়েছেন। মাকে আমাদের কাছে আনতে চাইলে তারা বাধা দেন, মারধর করেন।
এ জন্য তিনি মাকে উদ্ধার ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য ঘিওর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ছোট ছেলে দেলোয়ার হোসেন জানান, বিছানাতে টয়লেট করেন বলে মাকে খাবার দেওয়া হয় না। আমরা খাবার দিতে গেলে অথবা মাকে আনতে গেলেও তারা ঝগড়া বিবাদ করেন।
ঘিওর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম টুটুল জানান, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বসা হয়েছে। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। ওই বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। অবহেলা আর অযত্নে তিনি খুব কষ্টে দিন পার করছেন।
ঘিওর থানার ওসি আমিনুর রহমান জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়ে ওই বৃদ্ধার সন্তান ও স্বজনদের থানায় ডাকা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।