সোমবার বেলা ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান এ রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত অহিদুল মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের শাহ আলম মুন্সীর ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২৩ বছর আগে ভুক্তভোগী পারভীন বেগমের সঙ্গে অহিদুলের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে চার সন্তান রয়েছে। অহিদুল পেশায় ভ্যানচালক। তার সঙ্গে একই বাঘাডাঙ্গা গ্রামের করিম উদ্দিন ডাফার ছেলে রাজা মিয়া এবং ইনসান ডাফার জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ২০২১ সালের ২ জুন রাত ৮টার দিকে অহিদুল মুন্সী ভ্যান চালিয়ে বাড়িতে এসে প্রতিদিনের মতো রাতের খাওয়া-দাওয়া শেষে তার স্ত্রী এবং ছোট মেয়েকে নিয়ে টিনের দোচালা বসতঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত দেড়টার দিকে অহিদুল তার স্ত্রীকে ঘুম থেকে উঠিয়ে বলেন- আমাদের নামে থানায় মামলা হয়েছে। আমাদের ধরতে পুলিশ আসছে, চলো আমরা পালিয়ে যাই।
.png)
এ কথা বলে অহিদুল তার স্ত্রীকে নিয়ে পালানোর জন্য বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার পূর্ব দিকে শ্রীনগর উপজেলার বালাশুর বাঘাডাঙ্গা গ্রামের একটি করলা ক্ষেতে নিয়ে যান। সেখানে রাত আড়াইটার দিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পারভিন বেগমকে হত্যার করে লাশ পাশের একটি পুকুরের কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখেন। পরে লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা শ্রীনগর থানায় সংবাদ দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পারভিন বেগমের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পরে পুলিশ এ ব্যাপারে অহিদুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নিজ স্ত্রীকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন।
নিহত পারভিন বেগমের ভাই মো. জাহাঙ্গীর বাদী হয়ে এ ঘটনায় শ্রীনগর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে আসামিকে আদালতে হাজির করলে বিচারকের কাছে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এ মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পারভিন বেগমকে হত্যার দায়ে তার স্বামী অহিদুল মুন্সীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।