বেঁচে যাওয়া কয়েকজন ও দালাল সূত্রে শুক্রবার (১১ আগস্ট) রাতে এ খবর নিখোঁজদের স্বজনের কাছে পৌঁছার পর থেকেই মাতম করছেন পরিবারের সদস্যরা।
নিখোঁজ ৯ যুবক হলেন, বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের কাঙ্গালিয়া গ্রামের মোখলেছুর রহমান, একই এলাকার আনোয়ার হোসেন, কামাল হেসেন, ভাটের গ্রামের মাসুদ রানা, দুলালকান্দি গ্রামের মনির হোসেন, একই এলাকার রবিউল, টান লক্ষ্মীপুর গ্রামের স্বাধীন মিয়া ও নিলক্ষিয়া গ্রামের আমান মিয়া, দেওয়ানেরচর গ্রামের ইমন।
.png)
নিখোঁজদের স্বজনরা জানান, ১০-১২ লাখ টাকা খরচ করে দুলাল কান্দি গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন, নুর কাসেম ও তার স্ত্রী শাহিনুরের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন।
শুক্রবার (১১ আগস্ট) সকালে নিখোঁজ কামাল মিয়ার ছোট ভাই জামাল মিয়া জানান, ৫-৬ মাস আগে আমার ভাইকে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে ইতালির উদ্দেশে প্রথমে লিবিয়া নিয়ে যাওয়া হয়। বেশ কিছুদিন সেখানে রেখে গত বুধবার রাত ৮টার দিকে ট্রলারে তুলে ইতালির পথে যাত্রা করে। কিন্তু ৪০ মিনিট পর ডিঙি ডুবে যায়। জাকিরের তত্ত্বাবধানে থাকা ২০-১২ জন ফিরে আসলেও ৯ জন নিখোঁজ হন।
নিখোঁজ রবিউলের ভাই ইব্রাহিম বলেন, আমার ভাই আট মাস আগে লিবিয়া গিয়েছিল ভৈরবের দালাল রবিউল্লার মাধ্যমে। কিন্তু সেখানে ভাইকে বৈধ কোনো কাগজ করে দেয়নি। দুলালকান্দির দালাল জাকির হোসেন ইতালি যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এখন আমার ভাই নিখোঁজ। আমরা আমার ভাইয়ের সন্ধান চাই।
রবিউলের স্ত্রী সাথী আক্তার বলেন, আজ থেকে ১৭ দিন আগে আমার স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, আমার জন্য দোয়া করো। আমরা এখন গেম ঘরে আছি। আগামী বুধবারে ডিঙিতে তুলবে। এ কথা বলে মোবাইল বন্ধ করে দেন। তারপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারেনি।
এ বিষয়ে দুলালকান্দি গ্রামের ইউপি সদস্য মিলন জানান, নিখোঁজের খবর পেয়ে দালাল জাকিরের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তখন অন্য একজন কল রিসিভ করে জানান, জাকির হোসেনের আন্ডারে ২০ জনের থেকে ১২ জন উদ্ধার হলে ও আটজন খোঁজ পাওয় যায়নি।
বেলাব থানার ওসি তানভীর আহমেদ বলেন, বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি। এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।
বেলাবর ইউএনও আয়েশা জান্নাত তাহেরা বলেন, নিখোঁজদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। নিখোঁজের বিষয় জানতে প্রবাসী ও বৈদেশি কর্মসংস্থানে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।