সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা ও দায়রা জজ বেগম শারমিন নিগার এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রাসেল মিয়া জেলার কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর এলাকার আবু তাহেরের ছেলে। এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের পুলিশ পরিদর্শক কাজী দিদারুল আলম।
.png)
জানা যায়, ২০১৩ সালে কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের রামপুরের কুদ্দুস মিয়ার ছোট মেয়ে সুমা আক্তারের সঙ্গে রাসেল মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় রাসেলকে অটোরিকশাসহ প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার মালামাল ও এক ভরি ওজনের সোনার গহনা দেওয়া হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। রাসেল বিভিন্ন সময় সুমাকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে চাপ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এনিয়ে তাদের মনোমালিন্য সৃষ্টি হলে সুমা বাবার বাড়িতে চলে যান।
২০১৫ সালের ৩১ মে রাসেলকে তালাক প্রদান করেন সুমা। এরপর থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন রাসেল। একই বছরের ৪ অক্টোবর সন্ধ্যার পর নিজ বাবার বাড়িতে খাওয়া দাওয়া করে এক ঘর থেকে আরেক ঘরে যাচ্ছিলেন সুমা। এ সময় ওত পেতে থাকা রাসেল এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সুমাকে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা সুমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে ঘোষণা করেন। তবে মারা যাওয়ার আগে সুমা হামলাকারী হিসেবে রাসেলের নাম বলেন।
এ ঘটনার পরের দিন সুমার বাবা বাদী হয়ে কসবা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বেলাল হোসেন একই বছরের ডিসেম্বরে রাসেলকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়- সুমা তালাক দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে রাসেল তাকে হত্যা করেন।
সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও দায়রা জজ শারমিন নিগার রাসেলকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।