ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমন রোপণে কৃষকের ব্যস্ততা

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৫৬, ৩১ জুলাই ২০২৩
লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমন রোপণে কৃষকের ব্যস্ততা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁ। এ জেলার সিংহভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। এখন চলছে আমনের মৌসুম। সারাদেশের মতো নওগাঁতেও আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আমন ধানের আবাদ মূলত বৃষ্টি নির্ভর। চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণে ধান রোপণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৪৭৭ মেট্রিক টন। এরমধ্যে ১০ হাজার হেক্টর বেশি জমির বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৫ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়েছে। এই অমন মৌসুমে আমন ধান রোপণের জন্য জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে ১১ হাজার ২০০ জন কৃষককে ৫ কেজি বীজ ধান, ১০ কেজি এমওপি এবং ১০ কেজি ডিওপি সার প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

বিগত বছরগুলোতে আষাঢ় মাসের শুরুতে বৃষ্টির দেখা মেলে। বৃষ্টির পানি জমিতে বেধে রেখে চাষাবাদ করা হতো। চারিদিকে পানি থইথই করতো। নদী-নালা, খাল-বিলে পর্যাপ্ত পানি দেখা যেতো। কিন্তু এ বছর ঠিক তার উল্টো হয়েছে। আষাঢ় শেষে হয়ে শ্রাবণও শেষের পথে এসেছে; তবে বৃষ্টির দেখা নাই। তাই কিছুটা বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে নদী বা খাল অথবা কোনো ডোবা থেকে পানি সেচ দিয়ে জমি চাষ করে ধান রোপণ করছেন কৃষকরা।

Advertisement

মান্দা উপজেলার আমন ধান চাষি মিজান বলেন, আমি এখন পর্যন্ত আড়াই বিঘার জমিতে ধান লাগিয়েছি। এ বছর তীব্র তাপদাহে খরার কারণে আমন ধান লাগানো কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। আমন ধান যেহেতু বৃষ্টি নির্ভর আবাদ সেহেতু কৃষকরা বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছিল। কিন্তু বহুল কাঙ্খিত বৃষ্টি না হওয়ার কারণে টাকা দিয়ে নদী -নালা, খাল ও গভীর নলকূপের সাহায্যে সেচ দিয়ে কৃষকরা জমি তৈরি করা বা রোপণ করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশমান্দা উপজেলা নোঘল পীরপালি গ্রামের কৃষক ভুট্টু ফকির জানান, তিনি এ বছর দুই বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করার ইচ্ছে রয়েছে। তবে খরার কারণে ধান লাগানো কিছু পড়ে গেছে। এদিকে বীজতলার বীজের বয়স বেড়ে যাচ্ছে যার কারণে আবাদ কিছুটা কম হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এরমধ্যে আমন ধানের চাষাবাদ শুরু হয়েছে। তবে অনাবৃষ্টিতে কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে বৃষ্টি শুরু হলে ধান রোপণে ব্যস্ত হবেন চাষিরা। এ বছর ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এই বোরো মৌসুমে ধান কাটামাড়াই শেষ। ধানের ফলন ভালো হয়েছে এবং কৃষক লাভবানও হচ্ছে। সেই আশা থেকে চাষিরা আমন রোপণ শুরু করেছেন। আশা করা যাচ্ছে, বোরো ধানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আমনের বাম্পার ফলন হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
ট্যাগ: কৃষক নওগাঁ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!