বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক ফেরদৌস আরা এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. মহিউদ্দিন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার দাঁতমারা ইউনিয়নের মো. নুরুর ছেলে।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) খন্দকার আরিফুল ইসলাম বলেন, স্ত্রী হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মো. মহিউদ্দিনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তার বাবা মো. নুরু ও মা জরিনা বেগমকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। আসামি মহিউদ্দিন হাজতে ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। পরে সাজামূলে কারাগারে পাঠানো হয়।
.png)
মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর একই ইউনিয়নের আবু বক্কর ছিদ্দিকের মেয়ে সুমি আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় মহিউদ্দিনের। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য সুমিকে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করে আসছিল মহিউদ্দিন ও তার পরিবার। ২০১৯ সালের ১৫ আগস্ট সকালে শ্বশুরবাড়িতে মেয়ের মৃত্যুর খবর পান সুমির বাবা আবু বক্কর ছিদ্দিক।
এরপর ঐ বাড়িতে গিয়ে তিনি দেখেন- মেঝেতে উপুড় হয়ে পড়ে আছে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা সুমির লাশ। মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে অসংলগ্ন কথা বলতে থাকেন মহিউদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা। পরবর্তীতে স্থানীয় দাঁতমারা তদন্ত কেন্দ্রে খবর দিলে লাশটি উদ্ধার ও সুমির শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঐ ঘটনায় আবু বক্কর ছিদ্দিকের করা মামলা তদন্ত শেষে আদালতে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
এরপর ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে আটজন ও দুইজনের সাফাই সাক্ষ্য শেষে বুধবার মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।