সেই ব্যবসায়ীর নাম রুহুল আমিন রুবেল। তিনি নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত মোয়াজ্জেম হোসেন।
সর্বশেষ তিনি বগুড়ার এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এই বিয়ের মধ্যদিয়ে তার ৬৮তম মেয়ের বিয়ে দেওয়া সম্পন্ন হলো। গত শুক্রবার দুপুরে বগুড়া সদরের বিদুপাড়া গ্রামে এ বিয়ের আয়োজন করা হয়।
.png)
বিয়ের কনে হলেন ঐ গ্রামের ২২ বছরের মাকছুদা খাতুন। তার বাবার নাম মাহফুজার রহমান। মাহফুজার একজন দরিদ্র কৃষিশ্রমিক। আর্থিক সংকটে মেয়ের বিয়ে দিতে পারছিলেন না তিনি। অবশেষে খোঁজ পান ব্যবসায়ী রুহুল আমিন রুবেলের। ছুটে যান তার কাছে। মেয়ের বিয়ের ঘটনা খুলে বলেন তাকে। সব শুনে বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করতে বলেন রুবেল। এরপর নিজেই বিয়ের সমস্ত খরচ বহন করেন।
এই বিয়ের বরের নাম রিজু হোসেন। ২৬ বছরের রিজুও একই গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আনোয়ার হোসেন।
কনের বাবা বলেন, বড় আয়োজনে আমার মেয়ের বিয়ে হয়েছে, যা আমার কাছে স্বপ্নের মতো। কোনোদিনও ভাবিনি এভাবে মেয়ের বিয়ে দিতে পারবো। মেয়েটার বিয়ে নিয়ে খুবই দুঃশ্চিন্তায় ছিলাম। আমার সেই চিন্তা আর নেই। ব্যবসায়ী রুবেল আমার মেয়েকে নিজ খরচে বিয়ে দিয়েছেন। এমন ভালো মানুষ এখনো পৃথিবীতে আছেন- এটাই আমাদের জন্য পাওয়া।
রুহুল আমীন রুবেল বলেন, এক যুগেরও বেশি সময় আগে থেকে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো শুরু করি। নিজ খরচে সমাজের অসহায় ও এতিম মেয়েদের বিয়ের সম্পন্ন করি। এছাড়াও প্রতি শুক্রবার আমার নিজ এলাকার অসহায় মানুষদের খাবার বিতরণ করি। আমার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন সরকারও বেঁচে থাকাকালীন এসব কার্যক্রম করেছেন। মানুষকে ভালোবেসে তাদের পাশে দাঁড়াই-আর কিছুই না।
তিনি আরো বলেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যেন মানুষের সেবা করে যেতে পারি সবার কাছে এমন দোয়াই চাই আমি। সবাই আমার ও আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন।