মৃত সোহাগ রানা ঐ এলাকার এনামুল হকের ছেলে এবং পেশায় তিনি একজন কাঠমিস্ত্রি ছিলেন।
খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ঘটনাস্থল হতে চিরকুট এবং ওড়না উদ্ধার করে। রাতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। সোমবার লাশ ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
.png)
মৃতের চাচা নাজমুল হাসান বিপ্লব জানান, গত আট মাস আগে সোহাগ রানার সঙ্গে হাড়িভাষা এলাকার মহসিনা নামে এক মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের দু’মাস পর থেকেই সোহাগের স্ত্রীর পায়ে ব্যথা হয়। পরে রংপুর মেডিকেলসহ কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবুও কোমর থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ব্যথা দূর না হওয়ায় গত ১২ দিন আগে মহসিনা বাপের বাড়ি চলে যান।
সোহাগ গত ১৮ জুন স্ত্রীকে বাসায় আনতে শ্বশুর বাড়িতে যান। সেখানে সোহাগ গিয়ে দেখতে পান স্ত্রী মহসিনা সুস্থ আছেন। পরে তাকে নিয়ে আসতে চাইলে শ্বশুর বাড়ির লোকজন বাধা দেন। এ নিয়ে সোহাগকে মহসিনার ভাই এবং চাচা শ্বশুর মতিউর মারধর করেন। পরে স্ত্রী মহসিনাকে না নিয়ে সোহাগ বাড়ি ফিরে যান। রোববার বিকেলে ঘুমানোর কথা বলে নিজের ঘরে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে দাফনের পর মামলা করার পরিকল্পনা করছেন তারা।
উদ্ধার হওয়া চিরকুটে সোহাগ তার মৃত্যুর জন্য চাচা শ্বশুর মতিউরকে দায়ী করেন। আদালত যেন মতিউরকে ফাঁসি দেন সেটিও লিখে গিয়েছেন তিনি। স্ত্রী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় জন্মের পর সন্তানকে হাফেজ ও মাওলানা বানানোর নির্দেশও দেন স্ত্রী মহসিনাকে। চিরকুটের শেষে ‘আল্লাহ তুমি আমাকে মাফ করে দিও’ বলেও লিখে যান সোহাগ।
পঞ্চগড় সদর থানার এসআই সামসুজ্জোহা জানান, সরকারপাড়া গ্রাম থেকে সোহাগ রানা নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উপস্থিত পরিবারের লোকজন বলছে সোহাগের নিজ ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট এবং ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে।
পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আব্দুল লতিফ মিঞা জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।