নিহত জাহাঙ্গীর হোসেন উরুলিয়া গ্রামের মৃত আলা উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় একই গ্রামের শাহীন (২০) ও তানজিল (২৬) নামে আরও দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহতের পরিবার, পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মে উরুলিয়া গ্রামে পার্শ্ববর্তী দুই গ্রাম উরুলিয়া ও মির্জাপুর গ্রামের মধ্যে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী মির্জাপুর গ্রামের ফুটবল খেলোয়াড় ও তাদের সমর্থকদের বাগবিতণ্ডা হয়। সে ঘটনার ১৪ দিন পর রোববার (১১ জুন) বিকেলে জাহাঙ্গীর হোসেন তার দুই বন্ধু শাহীন ও তানজীলকে নিয়ে চালাকচর বাজার রয়েল ফাস্টফুড থেকে খাবার খেয়ে মোটরসাইকেলযোগে নিজ গ্রাম উরুলিয়ায় ফিরছিলেন।
.png)
পথে চালাকচর বাজার সংলগ্ন চালাকচর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছে পৌঁছলে ওত পেতে থাকা আনুমানিক ৮-১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তের দল মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার দুই বন্ধু শাহীন ও তানজীলকে বেধড়ক মারধর করেন। দুর্বৃত্তদের মারধরে জাহাঙ্গীর হোসেন ও শাহীন মিয়া রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং তানজীল গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেন। এ সময় তাদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে গুরুতর আহত জাহাঙ্গীর হোসেনকে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে এবং শাহীনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জাহাঙ্গীরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে আইসিইউতে পাঠানো হয়। ঘটনার ৫ দিন পর শুক্রবার (১৬ জুন) রাতে মারা যান জাহাঙ্গীর।
নিহত জাহাঙ্গীর হোসেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়া ইউনিভার্সিটির বিবিএর শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সুমন মিয়া বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মনোহরদী থানার ওসি মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ঘটনার পর থানায় একটি মারপিটের অভিযোগ করা হয়েছিল। এটি এখন হত্যাকাণ্ডের ধারায় পরিণত হবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দু’জনকে আটক করা হয়েছে।