বুধবার দুপুরে চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জান্নাতুল ফেরদাউস চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মাইনুদ্দিন কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর ইউনিয়নের আশ্রাফপুর গ্রামের আবু জাফরের ছেলে। হত্যার শিকার শাহনাজ একই ইউনিয়নের চাঙ্গিনী গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ৫ ডিসেম্বর মাইনুদ্দিন শাহনাজকে পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বিয়ে করেন। ফলে মাইনুদ্দিনের পরিবার তার উপর ক্ষিপ্ত হয়। এরপর মাইনুদ্দিন এবং তার পরিবার শাহনাজের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে অত্যাচার শুরু করে। ঘটনা জানাজানি হলে শাহনাজকে তার মামা রহুল আমিন নিজ গ্রাম পনশাহীতে নিয়ে রাখেন। এরপর মাইনুদ্দিন ও তার পরিবারে লোকজন অঙ্গীকারনামা দিয়ে শাহনাজকে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসে।
.png)
২০১১ সালের ৫ জানুয়ারি মাইনুদ্দিনের পরিবার শাহনাজকে তার বাবার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। যৌতুকের টাকা এনে দিতে না পারায় বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে ঐদিন সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে মাইনুদ্দিন শাহনাজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন দেন। এতে শাহনাজের মাথা হতে পা পর্যন্ত আগুনে পুড়ে যায়। এ ঘটনা জানতে পেরে শাহনাজের পরিবার তাকে প্রথমে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার পাঁচদিন পর ১১ জানুয়ারি সকালে মৃত্যুবরণ করেন শাহনাজ।
এ ঘটনায় শাহনাজের চাচা মো. আকতার হোসেন বাদী হয়ে কচুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মাইনুদ্দিন, তার বাবা আবু জাফর, মা মনোয়ারা বেগম এবং ভাই শাহজাহানকে আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় কচুয়া থানার তৎকালীন এসআই মো. নুরুল ইসলামকে। তদন্ত শেষে তিনি ২০১১ সালের ১ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
সরকার পক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) খোরশেদ আলম শাওন জানান, এ মামলায় ৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে বিচারক বুধবার এই রায় দেন। তবে মামলার রায়ের সময় আসামি পলাতক ছিলেন। এছাড়া অপর তিন আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।