ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

শখের বাগান থেকে বছরে আয় ৮ লাখ

সাইফুল ইসলাম রয়েল, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
প্রকাশিত: ১৫:০১, ১ জুন ২০২৩
শখের বাগান থেকে বছরে আয় ৮ লাখ
জাহাঙ্গীর মুসুল্লির আম বাগান -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শখের বসে বাড়ির আঙিনায় রোপণ করেছিলেন বিভিন্ন প্রজাতির আমের চারা। বছর পাঁচেক যেতেই মুকুল ধরে সেই গাছে। এর পরে ভালো ফলন পেয়ে বিক্রি শুরু করেন তিনি। তবে শখের বাগানই তাকে বাণিজ্যের স্বপ্ন দেখায়। এরপর ৬ একর জমিতে প্রভৃতি আমের চারা রোপন করেন জাহাঙ্গীর মুসুল্লি। এখন বছরে তার আম বিক্রি হয় প্রায় ৮ লাখ টাকা। এরই মধ্যে সফল খামারি হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি।

দেশের সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগর লাগোয়া পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউপির মুসুল্লিয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর মুসুল্লি। তিনি লবণাক্ত জমিতে দেশি-বিদেশি জাতের আম বাগান করে সারা ফেলেছেন গোটা এলাকায়।

আম গাছের পরিচর্যা করছেন জাহাঙ্গীর মুসুল্লি২০০৫ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে তাবলিগ জামাতে গিয়ে পরিচয় হয় এক আম বাগান মালিকের সঙ্গে। দীর্ঘ আলাপচারিতায় ঐ মালিকের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠায় তিনি নিজ বাড়িতে আমের চারা রোপণের ইচ্ছা পোষণ করেন। আর সেখান থেকেই চারা সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনায় রোপন করেন প্রভৃতি আমের গাছ। এর পরে ২০১০ সালে তার গাছে প্রথম আমের ফলন হলে পাল্টে যায় জাহাঙ্গীরের পথচলা। ভালো দামে আম বিক্রি শুরু হলে নতুন করে ৬ একর জমিতে আমচাষ শুরু করেন তিনি।

Advertisement

২০১৫ সালে বাণিজ্যিক সেই খামার থেকে ৫ লক্ষাধিক টাকার আম বিক্রি করেন। বর্তমানে তার বাগানে  ফজলি, হিমসাগর, আম্রপালি, বাড়ি-৪, লোকনা, ব্যানানা, কাটিমন, হাঁড়িভাঙা, সূর্যডিম, ফোরকেজি, বোম্বাই, মিশ্রিকান্ড, গোপালভোগসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ বৃক্ষ রয়েছে। আর এসব গাছে এখন ঝুলে আছে পুষ্টি গুণে সমৃদ্ধ সারি সারি আমের থোকা। তার বাগানে প্রবেশ করলেই পাকা আমের সুঘ্রাণ যেন জিবে জল এন দেওয়ার মত। আর সম্পূর্ণ বিষমুক্ত এ বাগানের ফল কিনতে ক্রেতাদের চাহিদাও রয়েছে বেশ ভালো। ফলে স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি উৎপাদিত এসব আম রফতানি করা হচ্ছে বরিশাল, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

জাহাঙ্গীর মুসুল্লির খামারের ভেড়াবাগানে কেবল আমই নয়, পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের পেয়ারা, লিচু, লেবু,কাঁঠাল, কলাগাছও রোপন করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ৭৫টি ভেড়া ও ১২টি গরুও পালন করেন এই খামারি। যা পালনে বছরে কয়েক লাখ টাকা উপার্জন হয় তার।

চাষি জাহাঙ্গীর মুসুল্লি জানান, এ বছর তার বাগানের ৫০০ গাছ থেকে ৩০০ মণ আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন তিনি। আবহাওয়া অনকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে তেমন ধকল পোহাতে হয়নি তার। শখের বসে আমের চারা রোপন করলেও এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করছেন। দুটি বাগান থেকে এখন বছরে তার আয় প্রায় ৮ লাখ টাকা। তাই উপকূলীয় এলাকায় অনাবাদি জমিতে কৃষকদের আম চাষে উদ্যোগী হওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

জাহাঙ্গীর মুসুল্লির আম বাগানকলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এআরএম সাইফুল্লাহ বলেন, কলাপাড়া উপজেলায় ১১০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করেন চাষিরা। আর বাগানের সংখ্যা রয়েছে ৩০০। তবে সব চেয়ে বড় খামারি কুয়াকাটার জাহাঙ্গীর মুসুল্লি। তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়া কৃষি বিভাগ থেকে আম চাষে উদ্যোগী হতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সার, বীজ, চারা দেওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে- এ বছর এই উপজেলায় কৃষকরা প্রায় দুই কোটি টাকার আম বিক্রি করতে পারবেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: কলাপাড়া
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!