জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে নওগাঁ শহরে লিটন ব্রিজের ওপর পুরাতন শ্যালো মেশিনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বেচাকেনা শুরু হয়। সে সময় হাতে গোনা কয়েকজন ব্যবসায়ী এ ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। তবে ব্যবসা ভালো হওয়ায় এখন অনেকেই এ ব্যবসায় যোগ দিয়েছেন।

.png)
শহরের মাঝখানে কাঁচাবাজারের পাশে ‘পুরাতন মেশিন পট্টির’ বাজার গড়ে উঠেছে। যা ভাংড়ি পট্টি নামেও পরিচিত। এখানে প্রায় শতাধিক দোকান রয়েছে। যেখানে সব ধরনের মেশিনারিজ যন্ত্রাংশ ও নাট-বল্টু পাওয়া যায়। কোনো ক্রেতা এ পট্টিতে কিছু কিনতে আসলে তাকে খালি হাতে ফেরত যেতে হয় না। নতুনের তুলনায় পুরাতন এসব যন্ত্রাংশের দাম তুলনামূলক কম এবং মান ভালো হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরগরম থাকে এ পট্টি।

খুচরা ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে পুরাতন জাহাজের নাট-বল্টু কেজির দরে কিনে নিয়ে আসা হয়। এরপর পরিষ্কার করে চকচকে করা হয়। নাট-বল্টু আগে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে কিনে নিয়ে আসতাম। কেজিতে ১০-১৫ টাকা লাভে বিক্রি করতাম। বর্তমানে দাম বেড়ে এখন ১৪০-১৫০ টাকা কেজি হয়েছে। দাম দ্বিগুণ হওয়ায় পুঁজি সংকটে পড়েছি। কোনো ক্রেতা এ পট্টিতে কিছু কিনতে আসলে তাকে খালি হাতে ফেরত যেতে হয় না।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রায় ১৫টি জেলায় নাট-বল্টু বিক্রি করা হয়। কুরিয়া সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হয়। বর্তমানে পুরাতন জাহাজ কাটা হচ্ছে কম। যন্ত্রাংশের দামও বেড়েছে দ্বিগুণ।

রায়হান বলেন, ২৫ বছর ধরে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা থেকে জাহাজের পুরাতন নাট-বল্টু কিনে নিয়ে এসে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হয়। গত বছর এসব নাট-বল্টু ৭০-৮০ টাকা কেজিতে কিনা হলেও এ বছর দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। আর মেশিনারি যন্ত্রাংশ পিস হিসেবে বিক্রি হয়। তারও দাম বেড়েছে। পুঁজি সংকটে পড়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে ক্ষুদ্র এসব ব্যবসায়ীদের।
শ্রমিক জহুরুল ইসলাম বলেন, ১০ বছর ধরে এ পট্টিতে কাজ করছি। বর্তমানে প্রতিদিন ৪০০ টাকা মজুরি পাওয়া যায়। বাজার ঊর্ধ্বগতির কারণে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য হচ্ছে না। দ্রুত মূল্যের দাম কমলে আমাদের জন্য সুবিধা হয়।
নওগাঁ নাট-বল্টু পৌর সমিতির সাধারণ সম্পাদক আপন হোসেন বলেন, এ পট্টিতে প্রায় শতাধিক দোকান রয়েছে। কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ২০০ শ্রমিকের। আশপাশের কয়েকটি জেলার চাহিদা পূরণ করে থাকি। সারা বছরই পুরাতন শ্যালো মেশিনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও নাট-বল্টুর চাহিদা থাকে। প্রতিদিন প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকার বেচাকেনা হয়। তবে বোরো ও আমন ধানের মৌসুমে শ্যালো মেশিনের যন্ত্রাংশ ও নাট-বল্টুর চাহিদা বেড়ে যায়।
বর্তমানে দোকানের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এ বাজারটির জায়গার স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। এ শিল্পকে আরো এগিয়ে নিতে জায়গাটি অন্যত্র স্থানান্তরসহ ব্যবসার পরিধি বাড়াতে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ পাওয়া গেলে ব্যবসায়ীদের জন্য সুবিধা হয়।