ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

লবণাক্ততার মধ্যেও বোরো চাষ, সফল রামপালের কৃষকরা

রিফাত আল মাহামুদ, বাগেরহাট
প্রকাশিত: ২১:৩৩, ১৪ মে ২০২৩
লবণাক্ততার মধ্যেও বোরো চাষ, সফল রামপালের কৃষকরা
রামপালে বোরো ধানের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে

বাগেরহাটের উপকূলীয় উপজেলা রামপালে তীব্র লবণাক্ততা মধ্যেও বোরো ধানের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে ভালো ফলন ঘরে তুলছেন কৃষকরা। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে এ এলাকার কৃষিতে পরিবর্তন আনায় বোরো ধানের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকরাও আশানুরূপ সফলতা অর্জন করেছেন।

রামপাল কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল চার হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। সেটি বেড়ে চার হাজার ৭০১ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, লবণাক্ততার প্রভাব ও স্বাদু পানির অভাবে হাজার হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি পড়ে থাকতো। কৃষকদের লবণাক্ততাসহিষ্ণু জাতের উন্নত বীজ ধান, সার ও কৃষি উপকরণ এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করায় কৃষি খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

এ বছর উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নে ৫৩৫ হেক্টর, উজলকুড় ইউনিয়নে দুই হাজার ৪১২ হেক্টর, বাইনতলা ইউনিয়নে এক হাজার ছয় হেক্টর, রামপাল সদর ইউনিয়নে ৪৮২ হেক্টর, রাজনগর ইউনিয়নে ১০৮ হেক্টর, হুড়কা ইউনিয়নে ২৮ হেক্টর, পেড়িখালী ইউনিয়নে ৪২ হেক্টর, ভোজপাতিয়া ইউনিয়নে নয় হেক্টর, মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নে ৬৭ হেক্টর এবং বাঁশতলী ইউনিয়নে ১২ হেক্টর জমিসহ মোট সাত হাজার ৭০১ হেক্টর জমি আবাদের আওতায় আনা হয়েছিল। এতে প্রায় ২০ হাজার ৬৬১ মেট্রিক টান চাল উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Advertisement

গত বছর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল চার হাজার ৩৩৫ হেক্টর। আবাদ হয়েছিল চার হাজার ৩৬০ হেক্টর জমি। চাল উৎপাদন হয়েছিল ১৮ হাজার ৪৩২ মেট্রিক টান। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল চার হাজার ৩০০ হেক্টর। আবাদ হয়েছিল চার হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমি। আর চাল উৎপাদন হয়েছিল ১৯ হাজার ৭২২ মেট্রিক টান।

উপজেলার বড়দিয়া গ্রামের কৃষক মোন্তাজ মোল্লা, সিংগড়বুনিয়া গ্রামের কৃষক বাকিবিল্লাহ ও হুড়কা ইউনিয়নের পার্থ জানান, কৃষি অফিসের ম্যাডাম আমাদের সময়মত বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ করেছেন। এজন্য আমরা এবার ভালো ফসল পেয়েছি। আগামীতেও কৃষি অফিস থেকে আমাদের এভাবে সার, বীজ দিলে আরো ভালো ফসল উৎপাদন করতে পারবো।

রামপাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণা রানী মন্ডল বলেন, প্রতিনিয়ত জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। মাটির লবণাক্ততার পাশাপাশি বাতাসেও লবণের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রণোদনার মাধ্যমে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ দিয়েছি। কৃষকরা যাতে কৃষিতে আগের মতো ফিরে দাঁড়াতে পারে, সেজন্য মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বিক সহায়তা প্রদান করছেন। আশা করি কৃষিতে রামপালে আবারও বিপ্লব ঘটবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!