জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ভুট্টা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আবাদ হয়েছে ১৭ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে। ভুট্টা চাষ লাভজনক হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ২০ হেক্টর বেশি জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, অন্যান্য ফসলের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি লাভ হওয়ায় জেলার সাতটি উপজেলায় এ বছর ভুট্টার আবাদ বেশি করেছেন চাষিরা। এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষে গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। আর প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ মণ করে ফলন পাচ্ছেন কৃষকরা। মানভেদে প্রতি মণ ভুট্টা স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে ১২শ টাকায়। তাতে করে সব খরচ বাদ দিয়ে ভুট্টা বিক্রি করে একেকজন কৃষক বিঘা প্রতি দুই থেকে আড়াই গুণ পর্যন্ত লাভ করছেন।
.png)
_1683799715.jpg)
হরিরামপুর উপজেলার সাপাইর গ্রামের কৃষক রহিজ উদ্দিন মোল্লা জানান, এ বছর নিজের সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছি। ভুট্টার বাম্পার ফলন পেয়েছি। আড়াই বিঘা জমির ভুট্টা কেটে বিক্রি করেছি। এক লাখ আট হাজার টাকার ভুট্টা বিক্রি করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে সার, বীজ, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মুজুরি দিয়ে খরচ পরেছিল ৩৭ হাজার টাকার মতো। আরো এক বিঘার ভুট্টা বিক্রি করলে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার মত পাওয়া যাবে। সবমিলে হিসাব করলে লাখ টাকার মতো লাভ থাকবে।
_1683799819.jpg)
সাটুরিয়া উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের কৃষক আফছার মিয়া বলেন, কৃষিকাজে বর্তমানে লাভ কম থাকায় চাষ করে শান্তি পাই না। খরচ উঠলেও লাভ তেমন হয় না। সবকিছুর দাম বাড়তি। আমি আগের বছর অন্যান্য ফসলের আবাদ করতাম। গত বছর এক বিঘায় ভুট্টার আবাদ করে ভালোই লাভ করেছিলাম। তাই এবার পাঁচ বিঘায় করেছি। আমাদের এই অঞ্চলের বেশিরভাগ কৃষক এখন ভুট্টার আবাদ করেছেন।’
_1683799777.jpg)
মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. এনায়েত উল্লাহ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ‘চলতি মৌসুমে জেলায় ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে এবার এই আবাদ হয়েছে। তাছাড়া, আমাদের মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের বিভিন্ন রকম পরামর্শ দিয়েছেন যাতে করে ভুট্টার ফলন ভালো হয়। এখন ভুট্টার বাজারমূল্যও ভালো পাচ্ছেন। আমরা চাই কৃষকরা ফসল আবাদ করে লাভবান হোক। কারণ কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।’