গত বছরের ১ জানুয়ারি ময়মনসিংহ শহরের র্যাব অফিসের উল্টো পাশে ‘মটকা আঁচ’ নামে ব্যতিক্রমী একটি রেস্তোরাঁ খোলেন। উদ্বোধনের কয়েক মাসের ব্যবধানে রেস্তোরাঁটি ময়মনসিংহে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এক বছরের ব্যবধানে সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন তারা। করেছেন অন্যের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ রেস্তোরাঁর ভেতরে যাচ্ছেন, আবার কেউ খেয়ে বের হচ্ছেন। খাবার পরিবেশনে ব্যস্ত সময় পার করছেন আসিফ, চয়নসহ অন্য শ্রমিকরা। আবার অনেকে ভেতরে বসার জায়গা না পেয়ে রেস্তোরাঁর সামনে দাড়িয়ে মটকা চা পান করছেন।
.png)

ব্যস্ততার ফাঁকে কথা হয় উদ্যোক্তা আসিফুল হক আসিফের সঙ্গে। এক বছরের ব্যবধানে ব্যবসার উন্নতি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথম যখন রেস্তোরাঁ খুলেছিলাম, তখন পরিচিতি কম থাকায় লোকজনও কম আসতেন। কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে লোকজন বাড়তে থাকলে আমরাও উৎসাহ পাই। ধীরে ধীরে রেস্তোরাঁটি নজরে আসে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনের। ফলে বিক্রি আরো বেড়ে যাওয়ায় আশানুরূপ লাভবান হই।
তিনি আরো বলেন, এরই মধ্যে ত্রিশালে জাককানই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেটের সঙ্গে বড় পরিসরে আরেকটি রেস্তোরাঁ করেছি। সেখানেও ভালো সাড়া পাচ্ছি। ময়মনসিংহ শহরে অবস্থিত ‘মটকা আঁচ’ নামে প্রথম রেস্তোরাঁর বিপরীত পাশে আরেকটি ঘর ভাড়া নিয়ে শাখা বাড়িয়েছি। এছাড়া শহরের কাঁচিঝুলি পার্ক রোড এলাকায় আরেকটি শাখা খোলার প্রস্তুতি চলছে। আমাদের চারটি শাখা একসঙ্গে চললে নিজেরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি আরো অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আসিফ বলেন, আমরা দুই বন্ধু গত বছর চারুকলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলাম। করোনার প্রকোপে টিউশনি না থাকায় দুইজন বেকার সময় পার করেছিলাম। তাই অল্প পুঁজিতে রেস্তোরাঁ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। রেস্তোরাঁর মাধ্যমে স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন নিজেকে সফল উদ্যোক্তা মনে করি। আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে।
আরেক উদ্যোক্তা চয়ন দেওয়ান বলেন, ময়মনসিংহ শহরের রেস্তোরাঁয় বর্তমানে মটকা চা, মটকা স্পেশাল চা, মটকা কুলফি, মটকা ফালুদা, মালাই কুলফি, রেগুলার চা, তন্দুরি চা, স্পেশাল তন্দুরি চা, চিকেন মোমো, হান্ডি মাটন ও হান্ডি চিকেন বিক্রি করা হয়। মাঝেমধ্যে বিক্রি করা হয় হাঁসের মাংস, খাসির নলি ও কলিজা ভুনা। এছাড়া জাককানইবি’র মূল গেটের পাশের রেস্তোরাঁয় মটকা চা, শিক কাবাব, বারবিকিউ চিকেন, লুচি, মালাই কুলফি, চিকেন খিচুড়ি এবং মোরগ পোলাও বিক্রি করা হচ্ছে। সবগুলোই হাঁড়ি-পাতিলে পরিবেশন করা হয়। তবে মটকা চা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে রেস্তোরাঁ। তবে সন্ধ্যার পর থেকে লোকজন বেশি আসতে শুরু করে। এ সময় থেকে আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। অনেকে ভেতরে বসার জায়গা না পেয়ে চলেও যান। আবার অনেকে বাইরের বেঞ্চে বসে মটকা চা পান করে খোশগল্পে মেতে ওঠেন।

রেস্তোরাঁয় বসে চা পান করার ফাঁকে কথা হয় হাশিম নামে আনন্দ মোহন কলেজের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তিনি বলেন, রেস্তোরাঁর ভেতরে কাঠ, ফোক আর্ট ও পত্রিকার কাগজ দিয়ে সাজানো। বাইরের দেয়ালে নব্বই দশকের জনপ্রিয় টিভি চরিত্র বাকের ভাইয়ের দেয়ালচিত্র ছাড়াও সুবিধাবঞ্চিত ও গ্রামীণ নারীদের জীবনযাত্রা তুলে ধরা হয়েছে। এটি সবাইকে আকর্ষণ করছে। যেকেউ রেস্তোরাঁর সামনে দিয়ে গেলে দেয়ালচিত্রের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এছাড়া মাটির পাত্রে সবকিছু পরিবেশন করায় অন্যরকম স্বাদ পাওয়া যায়।
ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি শংকর সাহা বলেন, শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করে তারা সফলতা পেয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, কোনো কাজকেই ছোট মনে করা যাবে না। চা বিক্রির কাজ ছোট মনে করলে সফলতা সম্ভব ছিল না। তারা এখন বেকারত্ব ঘুচিয়ে সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে তারা সফলতার চূড়ায় পৌঁছে যাবে।