মাগুরা জেলায় এবার প্রথমবারের মতো সফল ভাবে সুপারফুড চিয়া বীজ চাষ করেছেন সদরের নালিয়ার ডাঙ্গি গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী কৃষক আক্কাস খান। চিয়া বীজ চাষ করে রীতিমতো এলাকায় হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন এই কৃষক। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবং মাগুরা আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্র থেকে বীজ সংগ্রহ করে ৩৩ শতাংশ জমিতে চাষ করেছেন চিয়া বীজ। আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন বলে জানান এই কৃষক।
জানা গেছে, চিয়া বীজ মধ্য আমেরিকার একটি উদ্ভিদ। পুদিনার একটি প্রজাতি। বিভিন্ন পোষক পদার্থের উপস্থিতির জন্য এটিকে সুপারফুড বলা হয়। প্রতি বিঘা জমিতে চিয়া বীজ উৎপাদন করতে খরচ হয় ১৩-১৪ হাজার টাকা। বীজ উৎপাদন হয় ৮০-৯০ কেজি। প্রতি কেজি বীজ বিক্রি হয় ৮০০- ১০০০ টাকা দরে। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চিয়া বীজ বপন করতে হয়। ফলন ঘরে তোলা যায় মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে।
.png)
কৃষক আক্কাস খান বলেন, আগে এই ফসল কোনোদিন দেখিনি। কৃষি বিভাগ থেকে জেনেছি এই ফসল মানব শরীরের জন্য খুবই উপকারী। বাজারে এই ফসলের মূল্য অনেক বেশি। ৩৩ শতাংশ জমিতে এবার মাগুরাতে এবার প্রথমবারের মতো চিয়া বীজ চাষ করে, ভালো ফলন পেয়েছি। সব মিলে ৩ মণ ৫ কেজি চিয়া বীজ পেয়েছি। চিয়া সিড বাজারে বিক্রি করে অর্থনৈতিক ভাবে বেশ লাভবান হয়েছি। আগামীতে আরো বেশি জমিতে এই ফসল চাষ করব। উৎপাদিত চিয়া বীজ আমি নিজেও খাচ্ছি এবং বিক্রি করছি।
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সুফি মো. রফিকুজ্জামান বলেন, চিয়া বীজ হলো সুপারফুড। মাগুরার মাটি ও আবহাওয়া চিয়া বীজ চাষে অত্যন্ত উপযোগী। যে কারণে চিয়া বীজ উৎপাদনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। দুইটা সেচ দিতে হয়। বীজ বোনার সময় একটা, অন্যটা ৪০ দিন পর। এর জীবনকল ১০৫ দিন। চিয়া বীজ উৎপাদনে জৈবসারের ব্যবহার বেশি করতে হয়।
এবার প্রথমবারের মতো সদরের নালিয়ার ডাঙ্গি গ্রামে শারীরিক প্রতিবন্ধী কৃষক আক্কাস খান চিয়া বীজ চাষ করেছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে এবং সহযোগিতা করা হচ্ছে। জেলায় আগামীতে আরো বেশি কৃষককে চিয়া বীজ উৎপাদনের জন্য কাজ করছে কৃষি বিভাগ।