ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

বেরোবির যুথি এখন সফল উদ্যোক্তা

ফারহান সাদিক সাজু, বেরোবি
প্রকাশিত: ১৩:৪৩, ১৯ এপ্রিল ২০২৩
বেরোবির যুথি এখন সফল উদ্যোক্তা
সুরাইয়া যুথি। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সুরাইয়া যুথি। স্বাবলম্বী হওয়ার তাগিদে চিন্তা করেছিলেন কিছু একটু করার। সেই চিন্তা থেকেই অনলাইন প্লাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে জামা, শাড়ি, পাঞ্জাবি, ব্যাগ, প্রসাধনীসহ নান পণ্য বিক্রি শুরু করেন। পরে দেশি পণ্যের পাশাপাশি বিদেশি পণ্যও সংগ্রহ করে বিক্রি শুরু করেন। এভাবেই আজ তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। 

ফেসবুক পেজ 'সাজ কালেকশন' ও নানা গ্রুপের মাধ্যমে তিনি তার পণ্য বিক্রি করেন। তার জন্ম বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার পারতিতপরল গ্রামে সেখানেই বেড়ে ওঠা। ব্যবসায়ী বাবার দুই সন্তানের মধ্যে তিনি বড়।

পেছনের গল্প

Advertisement

সফল উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনের গল্পগুলো জানতে চাইলে সুরাইয়া যুথি বলেন, নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার ইচ্ছে অনেক আগেই মাথায় আসে। বিশেষ করে করোনাকালে যখন ঘরে বসে বিরক্তিকর সময় পার করছিলাম। ঠিক সেই সময়ই মাথায় আসল অনলাইন ই-শপিংয়ের বিষয়টা। কিন্তু, শুরু করার পর অল্প সময়ে সবার কাছ থেকে এত ভালো সাড়া পাব ভাবিনি। প্রথমদিনেই সেল পোস্ট করে  বাজিমাত সৃষ্টি হয়েছিল। যতগুলো পণ্য এনেছিলাম তার সবগুলো বিক্রি হয়ে যায়। এরপর আবার আনলাম। এভাবেই শুরু। 

বদলে গেলো ভাগ্য 

যুথির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনাকালে বিশ্বে যখন স্থবিরতা বিরাজ করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে অবসর সময়টাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি। তখন থেকে আজ পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে সফল উদ্যোক্তার কাতারে নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়সহ নিজ গ্রামেও সাড়া ফেলেছেন তিনি। নিজের মধ্যে যে উদ্যম কাজ করছিল, সেটাই তাকে আজ সফলতা এনে  দিয়েছে।

সামান্য কিছু পুঁজি

ব্যবসা করতে পুঁজির দরকার, আর বড় ব্যবসার জন্য পুঁজির পরিমাণও বেশি হতে হবে। আবার এতে ঝুঁকিও থাকে অনেক—এটাই প্রচলিত ধারণা। কিন্তু সামান্য পুঁজি নিয়েও যে কোটি কোটি টাকার ঝুঁকিহীন ব্যবসা করা যায়, সেই নজির যুথি। যুথির শুরুটা হয়েছিল সামান্য কিছু পুঁজি নিয়ে। মাত্র দুই- তিন হাজার টাকা নিয়ে তিনি যাত্রা শুরু করেন এই ব্যবসায়ের।  

গ্রাহক- বিক্রি

যুথির পণ্যের একটা বড় ক্রেতা হলেন তরুণ শিক্ষার্থীরা। তার কালেকশনে যেমন ১০০ টাকার পণ্য আছে ঠিক তেমনি পাঁচ হাজার টাকার ও পণ্য পাওয়া যায়। মাসে প্রায় এক লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করেন। তিনি ফেসবুকে তার পেজে পজিটিভ রিভিউ দিয়ে সবার কাছে ভালো একটা সাড়া পেয়েছেন। 

প্রতিবন্ধকতা

অনলাইন ডেলিভারি প্রতিবন্ধকতার ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়ে সুরাইয়া যুথি বলেন, প্রতিবন্ধকতা বলতে ডেলিভারির ব্যাপার, জরুরি  ডেলিভারিগুলো একটু চাপ হয়ে যায়। তবে সেগুলোও আমি মানিয়ে নিতে পারি। 

পণ্যের ক্রেতা

তিনি বলেন, আমার পণ্যর  বড় ক্রেতা হলেন শিক্ষার্থীবৃন্দ। সব পণ্য শিক্ষার্থীদের বাজেটের ক্রয়সীমার মধ্যে থাকে আর অল্প বাজেটের মধ্যে তাদের পছন্দের জিনিসটা হাতের কাছেই পেয়ে যায়। সে দিকটি মাথায় রেখে বিবেচনা করি। বাজারে চাহিদা বেশ ভালো। কারণ আমিও সেভাবেই পণ্য বাছাই করে আনি। যেসব জিনিসের চাহিদা ভালো ওসবই বারবার আনার চেষ্টা করি। সবাই আমার পণ্যর ভালো রিভিউ দেন।

নতুন যারা উদ্যোক্তা হতে চান

নতুন যারা উদ্যোক্তা হতে চান তাদেরকে উদ্দেশ্য করে সুরাইয়া যুথি বলেন, বর্তমান বেকার পরিস্থিতিতে সবাইকেই নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে। চাকরির জন্য অপেক্ষা করে হতাশাগ্রস্ত হওয়ার চেয়ে নিজ প্রচেষ্টায় কিছু করাটা ভালো বলে আমি মনে করি। ফলে কাউকে আর  হতাশ হবে হবে না।  

উত্তরণের চেষ্টা

সুরাইয়া যুথি বলেন, আমাদের দেশে নারীরা এমন কিছু সমস্যা মোকাবিলা করেন যেটা একই সমাজের একজন পুরুষকে মোকাবিলা করতে হয় না । তবুও অনেক নারী আছেন যারা জীবন সংগ্রামে লড়াই করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। 

সব কাজই কঠিন, বিশেষ করে টাকা ইনকাম করা সহজ ব্যাপার না। তবে যে যার জায়গা থেকে তার কঠিন অবস্থা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করেন। আমিও ঠিক সেরকম চেষ্টা করছি। তবে আমি খুবই আনন্দিত যে, অল্প সময়ে সবার সাড়া পেয়েছি। তবে হ্যাঁ মাঝে মাঝে কিছু নেতিবাচক বাক্য কানে আসলেও ওসব গায়ে লাগাই না। কারণ সবাই আপনাকে পছন্দ করবে এমন কোন কথা নেই। যোগ করেন জুথি। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!