সোমবার নির্যাতিতা তরুণী নিজে বাদী হয়ে অভিযুক্ত যুবকসহ আরো দুইজনের নাম উল্লেখ করে চরজব্বর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্ত যুবকের নাম নাজিমুল হক সুমন (২৬)। তিনি জেলার সদর উপজেলার নেওয়াজপুর ইউনিয়নর পূর্ব সাহাপুর গ্রামের হাজী মজিবুল হকের ছেলে ও তার মেয়ে রুমি আক্তার (২৩)। অপর আসামি, মর্জিনা আক্তার (৪৩) উপজেলার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মো. শাহীনের স্ত্রী। এছাড়াও মামলায় আরো ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
.png)
মামলা ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম উপজেলার স্থানীয় একটি ফাজিল মাদরাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। গত চার মাস আগে তার ব্যবহৃত নম্বর থেকে তার একজন সহপাঠীকে কল দেওয়ার সময় একটি নম্বর ভুল হয়ে নাজিমুল হক সুমনের (২৬) মুঠোফোনে কল চলে যায়। পরবর্তীতে সুমন তাকে প্রতিনিয়ত কল করতেন। এরপর সুমন ভিকটিমকে প্রেমের প্রস্তাবসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখান। ভিকটিম তার প্রস্তাবে রাজি না হলে তিনি শুধুমাত্র ভিকটিমের সঙ্গে একবার দেখা করার অনুরোধ করেন।
ভিকটিম তার কথা বিশ্বাস করে দেখা করার প্রস্তাবে রাজি হন। একপর্যায়ে গত ২৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সুমন অজ্ঞাত আসামিদের সহযোগিতায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভিকটিম মাদরাসায় যাওয়ার পথে তাকে অপহরণ করে জেলা শহর মাইজদীতে নিয়ে যান। ওই সময় সুমন ভিকটিমকে সদর উপজেলার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় তার খালা মর্জিনা আক্তার স্থানীয় ইসমাইল মিয়া চৌকিদারের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে রুমি আক্তার ও মর্জিনা আক্তারের সহযোগিতায় ভিকটিমকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন সুমন এবং ভিকটিমকে তাদের বসতঘরে আটকে রাখেন।
ভিকটিম গত রোববার ৭ মে ভোরে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য উঠলে একটি মোবাইল থেকে কৌশলে তার কাছে ম্যাসেজ দিয়ে সংক্ষেপে ঘটনার বিষয়ে জানিয়ে ঘটনাস্থলের নাম লিখে দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা সবাই পালিয়ে যান।
চরজব্বর থানার ওসি দেব প্রিয় দাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছে।