ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কৃষককে ‘ছিনতাইকারী সাজিয়ে’ মারধর-লুটপাট

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৪০, ২৩ এপ্রিল ২০২৩
কৃষককে ‘ছিনতাইকারী সাজিয়ে’ মারধর-লুটপাট
কৃষক তাইজুল ইসলাম

বাড়িতে আবাদ করা শাকসবজি বিক্রি করে জমানো টাকা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদের কেনাকাটা করতে পাশের মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় যান কৃষক তাইজুল ইসলাম (৩৫)। মার্কেটে যাওয়ার পর একমাত্র মেয়ে ও স্বজনদের জন্য জামাকাপড় কিনে বের হন তিনি।

পরক্ষণেই একজন ছিনতাইকারী বলে চিৎকার করে উঠে একটি চক্র, পরক্ষণেই মার্কেটে থাকা আশপাশের শতশত মানুষ ঘিরে ফেলেন কৃষক তাইজুলকে। একের পর এক আঘাত পড়তে থাকে তার শরীরে। তাইজুলের শত অনুরোধেও কেউ থামেননি। চলতে থাকে একের পর এক আঘাত। আঘাতে তার পুরো শরীর থেকে রক্ত বের হতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় তুলে নেয় সেই চক্র।

পাশেই পুলিশ বক্স, পুলিশের কাছে সহযোগিতা চেয়েও অমানবিক নির্যাতনের থেকে রক্ষা পাননি বলে অভিযোগ কৃষক তাইজুলের। সর্বশেষ কৃষক তাইজুলকে পাশের একটি সেলুনে নিয়ে অমানবিক নির্যাতনের পর সঙ্গে থাকা একমাত্র মেয়ে ও স্বজনদের জন্য কেনাকাটা করা সমস্ত জামাকাপড় মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যান।

Advertisement

ঈদের আগের দিন (২১ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর শহরের ইয়াকুব আলী মাস্টার টাওয়ারে আলোচিত এ ঘটনাটি ঘটে। রোববার বিকেলে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়টির বিবরণ দেন।  

ভুক্তভোগী তাইজুল ইসলাম উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক।

ভুক্তভোগী তাইজুল ইসলাম বলেন, গত শুক্রবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যার পরপরই ঈদের কেনাকাটা করতে পাশের মাওনা চৌরাস্তা এলাকার কিতাব আলী মাস্টার টাওয়ার যান। এরপর একমাত্র মেয়ে তায়েবার জন্য জামাকাপড়, পছন্দের জুতা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য নতুন জামাকাপড় কিনে মার্কেটের সামনে আসি। এ সময় সাত-আটজনের একটি চক্র আমাকে এসে বলতে থাকে তুই ছিনতাইকারী, এই বলে আমার কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে ছিনতাইকারী ছিনতাইকারী বলে চিৎকার শুরু করে। এরপর কৌশলে আমার সঙ্গে থাকা নতুন জামাকাপড় ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় আমি অনেকভাবে মাফ চেয়েও ক্ষমা পাইনি। একের পর এক আঘাত করতে থাকে, পাশ থেকে ঐ চক্র উসকানি দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা আমাকে তুলে নিয়ে যায় উড়াল সেতুর নিচে, সেখানে নিয়ে গেলে পুলিশের সহয়তা চেয়েও নির্মম নির্যাতনকারীদের হাত থেকে রক্ষা করেনি পুলিশ। এরপর পাশের একটি সেলুনে নিয়ে অনেক নির্যাতন করে গোপন পকেটে থাকা টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে আমাকে ফেলে যায় তারা।

তিনি আরও জানান, ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের বয়স হবে ২৫ বছর, আর কয়েকজনের বয়স আর একটু বেশি।

নির্মম নির্যাতনের শিকার তাইজুল ইসলামের বড় ভাই ফাইজুল ইসলাম বলেন, তারা আমার ভাইকে নির্মম নির্যাতন করে আঘাত করেছে। তার চোখের সমস্যা অনেক, চোখ নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা আছে। ঈদের জন্য অনেক হাসপাতালে ভালো ডাক্তার পাচ্ছি না। চিকিৎসা করানোর জন্য ময়মনসিংহ, শ্রীপুর ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে ঘোরাঘুরি করছি। ভালো মানের ডাক্তার পাচ্ছি না।

তিনি আরও জানান, এভাবে ছিনতাইকারী সাজিয়ে আমার ভাইকে নির্মম নির্যাতন করলো আসল ছিনতাইকারীরা তবুও পুলিশ আমার ভাইকে রক্ষা করলো না। আশপাশের সবস্থানে রয়েছে অসংখ্য সিসিটিভি, সেসব সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে আসল ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা দায়ের করবো।

মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি কংকন কুমার বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি আমার নজরে নেই, তবে সেদিন ওই সময়ে পুলিশের কোন সদস্য ডিউটিতে ছিলো এ বিষয়ে খবর নেয়া হবে। তাছাড়া এখানে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে থাকেন বলেও জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!