ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বরেন্দ্রভূমিতে বাড়ছে তাপমাত্রা, ঝরছে আমের গুটি

ফয়সাল আহমেদ, রাজশাহী
প্রকাশিত: ১৮:০২, ৯ এপ্রিল ২০২৩
বরেন্দ্রভূমিতে বাড়ছে তাপমাত্রা, ঝরছে আমের গুটি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সপ্তাহখানেক আগেও রাজশাহীর আবহাওয়া ছিল বেশ সহনশীল। তবে গত কয়েক দিনেই রাজশাহীর প্রকৃতি যেন ধারণ করেছে  রুদ্রমূর্তি। দিন যতই গড়াচ্ছে, চৈত্রের খরতাপ যেন ততই বাড়ছে। বরেন্দভূমির বুকে দিনের বেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় শুকিয়ে ঝরে পড়ছে আমের গুটি। এতে অনেকটা দুশ্চিতার ভাঁজ আমচাষিদের কপালে দেখা দিয়েছে।

হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের বিষয়ে কথা হয় রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মো. আব্দুস সালামের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ভারতে একটি অঙ্গরাজ্যে ঘূর্ণিঝড় বয়ে গিয়েছিল। যার কারণে রাজশাহীসহ বাংলাদেশের বেশকিছু জায়গা আবহাওয়াহ শীতল ছিল এবং বেশকিছু স্থানে বৃষ্টিও হয়েছিল। কিন্তু গত ৪-৫ দিনের ব্যবধানে রাজশাহীর তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। এদিকে বৃষ্টিরও দেখা নেই।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে রাজশাহী অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক দিন থেকে থার্মোমিটারে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পারদ ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছিল। শনিবার (৮ এপ্রিল) রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পুরোপুরি ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে ঠেকেছিল। রোববার (৯ এপ্রিল) সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তাপমাত্রা ছিল ২০ ডিগ্রী। দুপুর গড়ালে তা বেড়ে ৩৮ দশমিক ১ ডিগ্রী তাপমাত্রায় পৌঁছায়। বিকেল ৪-৫ টা নাগাদ তাপমাত্রা দাঁড়াবে ২৬-৩৭ ডিগ্রীতে। রাতে রাজশাহীর তাপমাত্রা কিছুটা শীতল থাকবে।

Advertisement

আব্দুস সালাম বলেন, রাজশাহীতে এখন মৃদু তাপপ্রবাহ চলছে। বৃষ্টি না হলে এই তাপমাত্রা মাঝারিতে রূপ নিতে পারে। আগামী আরো ২-৩ দিন এমন তাপমাত্রা বিরাজ করবে। তবে তাপপ্রবাহ বাড়লেও বাতাসের আদ্রতা কম রয়েছে। এ কারণে মানুষের শরীরে ঘামের পরিমাণ কম হচ্ছে। তাই জনমনে অস্বস্তি কিছুটা কম দেখা গেছে। রোববার বেলা ৩টায় রাজশাহীতে বাতাসের আদ্রতার পরিমাণ ১৭ শতাংশ ছিল বলেও উল্লেখ করেন এই আবহাওয়া পর্যবেক্ষক।

এদিকে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে রাজশাহীতে আমের গুটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ সময় বৃষ্টি না হলে অতিরিক্ত তাপপ্রবাহে আমের গুটি ঝরে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ গেলো বছরে মৌসুমের শুরুর দিকে প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টি ও পরের দিকে তীব্র দাবদাহের কারণে গাছে আম টেকেনি। এ বছরও তেমন বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করলে আম চাষিদের দুঃখের শেষ থাকবে না বলেও জানিয়েছেন অনেক আম চাষি।

রাজশাহীর নওহাটার বাসিন্দা মোহাম্মদ রাজিবুল ইসলাম। দেড় যুগ ধরে আমের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তিনি। প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘গত বছর প্রথমদিকে গাছে এতো মুকুল এসেছিল তা বলার মতো না। কিন্তু আফসোস প্রথমদিকে ঝড়-বৃষ্টি এবং পরবর্তীতে আগুন ঝরা রোদ্রের তাপে গাছের চার ভাগের তিনভাগ গুটি আম ঝরে পড়েছিল। ঔষধ ছিটিয়ে কিংবা গাছে পানি মেরেও লাভ হয়নি। গতবারের মতো এবারো গুটি আমগুলো ঝরে পড়ছে। তবে কৃষি অফিসারদের পরামর্শ মোতাবেক পরিচর্যা করা হচ্ছে। দেখি কোনো লাভ হয় কিনা!’

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশএদিকে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, এবার রাজশাহীতে ১৯ হাজার ৫৭৮ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর। গেলবার আম উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৬ হাজার ১৫৬ মেট্রিক টন। তবে এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ২ লাখ ২৫ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ হিল কাফি বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চল এমনিতেই শুষ্ক ধরনের। আর শুরুতেই কিছু মুকুল ও গটি আম ঝরে পড়বে এটি স্বাভাবিক বিষয়। তবে তাপমাত্রা ৩৫ এর উপরে উঠলেই আমরা মাঠ পর্যায়ে চাষিদের গোড়ায় সেচ দেওয়ার পরামর্শ দিই। এছাড়া তাপমাত্রা যখন ৩৮ বা তার বেশি পরিমাণে যায় তখন আমচাষিদের গাছে পানি ছিটানোর পরামর্শ প্রদান করি। বিশেষ করে কৃষকরা যদি এক লিটার পানির সঙ্গে ২০ গ্রাম কাঁচা ইউরিয়া সার মিশিয়ে তা গাছে স্প্রে করে তবে সেটি বেশ কার্যকর হয়। আমের গোড়া মজবুত হয় এবং গাছ থেকে আম ঝরে পড়ার সম্ভাবনাও থাকে না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
ট্যাগ: রাজশাহী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!