রোববার দুপুরের দিকে কুষ্টিয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দ হাবিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কুষ্টিয়া পৌরসভার থানাপাড়া এলাকার মামুনুর রহমান সান্টুর ছেলে রাতুল হাসান নিবিড়, উপজেলা মোড় এলাকার আসাদুর রহমানের ছেলে নাজিদুর রহমান সিয়াম, কমলাপুর এলাকার কামরুজ্জামানের ছেলে অভিকুজ্জামান, হাউজিং সি-ব্লক এলাকার আওলাদ খানের ছেলে ইপ্তি খান, রাজারহাট এলাকার ফারুকের ছেলে আরাফাত শাওন, থানাপাড়ার কামাল উদ্দিনের ছেলে মোবারক হোসেন এবং থানাপাড়া এলাকার আব্বাস উদ্দিনের ছেলে ফুয়াদ হোসেন সামি। তারা কুষ্টিয়ার আলোচিত কিশোর গ্যাং বিএসবি গ্রুপের সদস্য।
কুষ্টিয়ার নারী ও শিশু আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর কাজী সাইফুদ্দীন বাপী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে অভিকুজ্জামান, ইপ্তি ও নিবিড়কে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বাকি চারজনকে শর্ত সাপেক্ষে প্রবেশন (সাজা) এর আদেশ দেন আদালত।
.png)
রায় ঘোষণার পর আসামি অভিকুজ্জামান ও নিবিড়কে কড়া নিরাপত্তায় আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে আসামি ইপ্তি পলাতক রয়েছেন।
জানা যায়, পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র জেরে ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের এনএস রোড এলাকায় ঐ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা কলেজছাত্র হৃদয়কে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে আহত করেন। এ সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করা হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় হৃদয়কে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়।
এ ঘটনাই কলেজছাত্র হৃদয়ের বাবা মোহাম্মদ শেখ বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো তিন থেকে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের এসআই সুমন কাদেরী তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। আদালত এ মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে রোববার রায় ঘোষণা করেন।