ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

২০ বছর হাদিয়া ছাড়াই তারাবি পড়ান হাফেজ আব্দুর রউফ

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:১০, ৩১ মার্চ ২০২৩
২০ বছর হাদিয়া ছাড়াই তারাবি পড়ান হাফেজ আব্দুর রউফ
হাফেজ মুফতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ

হাফেজ মুফতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের খতিবের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এক সময় মুসল্লিদের থেকে পাওয়া দান-অনুদানের টাকায় তারাবির হাফেজদের হাদিয়া দেওয়ার রেওয়াজ ছিল এই মসজিদে। সেই রেওয়াজ ২০ বছর আগে বন্ধ করে দেন তিনি। তিনি যে বছর থেকে তারাবি পড়ান শুরু করেন, তখন থেকেই হাদিয়া নেয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে যায়। 

হাফেজ মুফতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, কুরআনের বিনিময় হয় না। কোনো হাদিয়া বা সম্মানী দিয়ে একজন হাফেজের শ্রমকে মূল্যায়ন করা যায় না। তাই তিনি তারাবি পড়িয়ে কোনো হাদিয়া নেন না।

জানা যায়, মোহাম্মদ আব্দুর রউফ শুধু হাফেজই নন, তিনি একজন মুফতি। মসজিদের খতিবের পাশাপাশি হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্সের আওতাধীন জামিয়া আহমাদিয়া কাওমী মাদরাসার মুহতামিম তিনি। ওই মাদরাসায় বর্তমানে প্রায় ১১০০ ছাত্র নূরানী, কিতাব, নাজেরা, হিফজ বিভাগে পড়ছেন।

Advertisement

হাফেজ মুফতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ

স্থানীয়রা জানায়, বর্তমানে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের খতিবের দায়িত্ব পালন করছেন এই হাফেজ। এক সময় মুসল্লিদের থেকে পাওয়া দান-অনুদানের টাকায় তারাবির হাফেজদের হাদিয়া দেওয়ার রেওয়াজ ছিল এই মসজিদে। কিন্তু ২০ বছর আগে সেই রেওয়াজ বন্ধ করে দেন হাফেজ আব্দুর রউফ। তিনি যে বছর থেকে তারাবি পড়ান শুরু করেন, তখন থেকেই হাদিয়া নেওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে যায়। এই মসজিদে আব্দুর রউফসহ আরো দুজন হাফেজ আছেন। সমন্বয় করে তারা ২০ রাকাত তারাবি নামাজ সম্পন্ন করেন।

হাফেজ মুফতী মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, এ বছর আমার সঙ্গে তারাবি নামাজ পড়াচ্ছেন হাফেজ মাওলানা আনাছ ও হাফেজ মাওলানা এমদাদ উল্লাহ। আমি জুমার খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। বাকি দুজন পেশ ইমাম হিসেবে নামাজ পড়ান। এই মসজিদে রমজানে তারাবি পড়ানোর জন্য আলাদা করে কোনো হাফেজ নিয়োগের প্রয়োজন হয় না। 
হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের মুতাওয়াল্লি ড. মো. আলমগীর কবির পাটওয়ারী বলেন, ২০ বছর আগে মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে দান-অনুদানের টাকা সংগ্রহ করে হাফেজদের হাদিয়ে দিয়েছি। কিন্তু বর্তমান খতিব হাফেজ মুফতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ যে সময় থেকে তারাবি পড়াতে শুরু করেন তখন থেকেই এ রেওয়াজ বন্ধ হয়। কারণ তিনি আমাদের বলেছেন, কুরআনের বিনিময় হয় না। তখন থেকে তিনিও হাদিয়া নেন না এবং আরো সহযোগী দুইজন হাফেজ হাদিয়া ছাড়া তারাবি পড়াচ্ছেন। 

হাজীগঞ্জ আহমাদ আলী পাটওয়ারী ওয়াক্ফ এস্টেটের ভারপ্রাপ্ত মুতাওয়াল্লি প্রিন্স সাকিল আহমেদ বলেন, হাফেজ মুফতী মোহাম্মদ আব্দুর রউফ গত ২০ বছর আগে মসজিদ ও মাদরাসার খেদমতে আছেন। তিনি স্বপরিবারে এখানে থাকেন। তার নিজ জেলা ময়ময়নসিংহ। তিনজন ইমামকেই মসজিদ কমপ্লেক্স থেকে ইমামতির জন্য সম্মানি দেওয়া হয়। তারাবি’র জন্য কোনো হাদিয়া দিতে হয় না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!