অপরদিকে নির্যাতনের শিকার ছেলে রাজন ঘটনার পর মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে এখনো সংশোধনাগারে রয়েছে বলে জানা গেছে।
ফরিদপুর কোর্ট পুলিশের জিআরও মো. ইউসুফ শেখ জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুর জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট কোর্টের ৫নং আমলী আদালতে রিমান্ড শুনানি হয়। এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট মো. মারুফ হাসান একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশ আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলো।
.png)
আসামিরা হলেন, ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মাঝকান্দি গ্রামের আসাদুল মোল্যার ছেলে ফরমান মোল্যা (২১), একই গ্রামের শাহজাহান মোল্যার ছেলে সজীব মোল্যা (২২) এবং একই উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের নবিয়াল শেখের ছেলে জুবায়ের শেখ (২০) ও নূর ইসলাম ভূইয়ার ছেলে হাসিব ভুইয়া (২০)।
আদালতে রিমান্ড শুনানি শেষে আসামিদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সুবিধামতো সময়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় রিমান্ডে এনে তাদের জিজ্ঞেসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন মধুখালী থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম।
এর আগে সোমবার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব আসামিদের গ্রেফতার করে কোর্টে চালান করা হলে আদালত বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) শুনানির দিন ধার্য করে।
এদিকে মামলার প্রধান আসামি কুতুবউদ্দিনকে (৪৫) এর আগে পুলিশ গ্রেফতার করার পর এরইমধ্যে তিনি জামিনে বেরিয়ে যান। এ মামলায় এখন পর্যন্ত তিন আসামি জামিনে রয়েছেন। আর নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের অন্যতম দুইজন ইসরাত জাহান লিপি ও রুমা এখনও আত্মগোপনে রয়েছেন।
ফরিদপুর সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) কর বলেন, পুলিশ এ ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এরমধ্যে প্রধান আসামি কুতুবউদ্দিন আদালত থেকে জামিনে আছেন। এছাড়াও এ মামলার অপর দুই আসামি আদালত থেকে জামিনে আছেন। আর সদ্য গ্রেফতারকৃত বাকি চার আসামিকে একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদেরও গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। শিগগিরই বাকি আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ মার্চ ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে ইয়ামিন মৃধা (৪০) ও তার ছেলে রাজন মৃধাকে (১৫) নির্মম নির্যাতন করা হয়। এরপর নির্যাতনের ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে নিন্দার ঝড় উঠে। ওই ভিডিওতে মাঝকান্দির নাজিমউদ্দিনের মেয়ে রুমার নেতৃত্বে পাশবিক নির্যাতনের ভয়াবহতা ফুটে উঠে।