মঙ্গলবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি নুর মোহাম্মদ ছৈয়াল ও নোমান হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর আসামি আব্দুল্লাহ প্রকাশ জাইল্লা আব্দুল্লাহ পলাতক রয়েছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত নুর মোহাম্মদ রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়া গ্রামে ওসমান গণি ছৈয়ালের ছেলে, নোমান একই এলাকার খোরশেদ মোল্লার ছেলে এবং আব্দুল্লাহ একই ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী গ্রামের সেকান্তর আলী সর্দারের ছেলে।
.png)
লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, ভুক্তভোগী নিশান লক্ষ্মীপুর পৌরসভার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের আবদুল বারেকের পালিত ছেলে। তিনি স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে রায়পুরের চরকাছিয়া গ্রামে বসবাস করতেন। তিন ঐ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। আসামিদের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে তিনি মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। ২০১৯ সালের ৬ জানুয়ারি রাতে আসামিরা তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর ঐ রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরের দিন নিশানের স্ত্রী বিউটি আক্তার আসামিদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ করেন। সেখানে আসামিদের খোঁজও পাননি তিনি।
এরপর ৮ জানুয়ারি আসামি নোমান ভুক্তভোগীর স্ত্রীর মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানান- তাকে যেন বিপদে না জড়ানো হয়। একইদিন বিকেলে বিউটিকে প্রতিবেশী বিল্লাল হোসেন জানান- চরকাছিয়া গ্রামে ভুক্তভোগীর গলায় ফাঁস লাগানো লাশ পড়ে আছে। এ সময় স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন তিনি। পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। একইদিন নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে রায়পুর থানায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
২০২১ সালের ৩১ আগস্ট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নোয়াখালী কার্যালয়ের পুলিশ পরিদর্শক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে এ রায় প্রদান করেন।