ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বাবার অপমানের প্রতিশোধ নিতে বাড়িওয়ালার ছেলেকে হত্যা

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৫০, ১২ মার্চ ২০২৩
বাবার অপমানের প্রতিশোধ নিতে বাড়িওয়ালার ছেলেকে হত্যা
গ্রেফতারকৃত সোহাগ- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বাবার অপমানের প্রতিশোধ নিতে শিশুকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুর মহানগরের গাছা এলাকায়। এ ঘটনায় জড়িত এক আসামিকে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার স্বীকারোক্তিতে ঐ শিশুর লাশ সিরাজগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত নয় বছর বয়সী তামজিদ গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন কুনিয়া পাছর এলাকার লতিফ সরকারের ছেলে। গ্রেফতারকৃত আসামির নাম সোহাগ। তিনি টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার তেপাড়িয়া গ্রামের মাখন মিয়ার ছেলে। তিনি ভুক্তভোগী শিশু তামজিদের বাবার বাড়ির ভাড়াটিয়া।

রোববার সন্ধ্যায় গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ-দক্ষিণ) মাহবুব-উজ-জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আসামি সোহাগ তার এক ভাই ও বোনকে নিয়ে গাজীপুর মহানগরীর মহানগরীর গাছা থানাধীন কুনিয়া পাছর এলাকার লতিফ সরকারের বাসায় ভাড়া থাকেন। তিনি একটি কারখানায় চাকরি করেন। অপরদিকে, লতিফ সরকারের স্ত্রী সুদে টাকা দেন। লতিফ সরকারের স্ত্রীর কাছ থেকে সোহাগ ২০ হাজার, তার বোন সুলতানা ১৬ হাজার টাকা সুদে নেন। তারা টাকার সুদ ও বাসা ভাড়া সময়মতো পরিশোধ করতে না পারলে তাদেরকে বিভিন্ন সময় অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও অপমান করতেন।

Advertisement

সোহাগের বাবা মাখন পুরান ঢাকায় বই বাঁধাইয়ের কাজ করেন। কয়েকদিন আগে সোহাগের বাবা তাদের ভাড়া বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তখন লতিফ সরকার সোহাগের বাবাকে উল্লিখিত কারণে চরমভাবে অপমান করেন। সোহাগের বাবা চলে যাবার পর প্রতিশোধ নিতে সোহাগ বাড়িওয়ালার শিশুপুত্র তামজিদকে গত ১০ মার্চ সন্ধ্যায় অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিনজনের সহায়তায় বাড়ির সামনে থেকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় লতিফ সরকার গত ১১ মার্চ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামি সোহাগের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানাধীন তেপাড়িয়া এলাকা হতে আসামি সোহাগকে গ্রেফতার করা হয়। সোহাগের দেওয়া তথ্যমতে সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী থানাধীন চৌদ্দরশি এলাকার যমুনার চরের শস্যক্ষেতে পুঁতে রাখা শিশু তামজিদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরো আরো জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি সোহাগ অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। সোহাগ জানিয়েছেন, বাবাকে অপমানের প্রতিশোধ নেয়ার জন্যই তিনি শিশুটিকে অপহরণের পর হত্যা করেছেন।

সোহাগ পুলিশকে জানান, শিশুটিকে অপহরণের পর প্রথমে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিয়ে যান। এরপর শিশুটিকে নিয়ে টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানাধীন ভেপাড়িয়া এলাকার তার নিজবাড়ির উত্তর পাশে একটি নিচু জমির মধ্যে রাতে অবস্থাপন করেন। পরের দিন ভ্যানযোগে সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী থানার পশ্চিম পাশে জনতা ঘাট দিয়ে যমুনা নদী পার হন। এরপর চৌহালী থানাধীন চৌদ্দরশি এলাকার একটি শস্যক্ষেতে নিয়ে যান। সেখানে তামজিদকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিতের জন্য শিশুটির গলা কেটে বালুর নিচে পুঁতে রাখেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!