নিহত রবিন হোসেন শান্তকে বুধবার (৮ মার্চ) শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব নাগেরপাড়া গ্রামে দাফন করা হয়েছে।
নিহত শান্তের বাবা সোহরাব সরদার বলেন, একটা মাত্র ছেলে ছিল আমার। অনেক কষ্টে ছেলেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করিয়েছিলাম। দুই বছর আগে আমার ব্রেইন স্ট্রোক হয়। পরে সে পড়াশোনা ছেড়ে রাজধানীর সিদ্দিক বাজারে একটি সিরামিকের দোকানে কাজ শুরু করে। যা বেতন পেতো তাতে আমাদের সংসার চলছিল। ওর টাকায় আমাদের ওষুধ কিনতে হতো। এখন কে আমাকে ওষুধ কিনে দেবে? কে আমাদের মুখে খাবার দেবে?
.png)
তিনি আরো বলেন, আমরা বুড়া-বুড়ি কখন মরে যাই জানি না। ছেলের বউ দেখার আশায় পাঁচ মাস আগে বিয়ে করিয়েছিলাম শান্তকে। কিন্তু অভাবের সংসার, অনুষ্ঠান করতে পারিনি বলে এখনো বউ নাইয়র আনা হয় নাই। সিরামিক দোকানের মালিক বলেছিল রমজানের ঈদের পরে শান্তর বেতন বাড়াবে। আশা ছিল কোরবানির ঈদের পর গ্রামের মুরব্বিদের নিয়ে লাল শাড়ি পরাইয়া আমার ছেলের বউ আনব। কিন্তু আল্লাহ আমার এটা কি করল? নাইয়র না আসা বউ আইলো স্বামীরে মাটি দিতে।’
নিহত রবিন হোসেন শান্তর মা তাসলিমা বলেন, ‘আমি এখন ছেলের বউকে কী করব? আমার তো আরেকটা ছেলেও নেই, যে তার সঙ্গে বিয়ে দেব।’
বরিন হোসেন শান্তর স্ত্রী জিয়াসমিন বলেন, ‘আমি স্বামীর ঘর করার আগেই বিধবা হইলাম। আমি এখন কী করব? আমার কী হইব?
সোহরাব সরদারের প্রতিবেশী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সোহরাবের কোনো জমি নেই। বাড়ি করবেন বলে জমানো টাকা দিয়ে ৫ শতাংশ জমি কিনছিলেন। সেই জমিতে ছেলেকে দাফন করতে হলো।
প্রসঙ্গত, গুলিস্তানের সিদ্দিকবাজারে বিস্ফোরণে ধসে পড়া ভবন থেকে প্রথমে দোকান মালিক মমিন উদ্দিন সুমনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার আধাঘণ্টা পর কর্মচারী রবিন হোসেন শান্তর লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।