ঘটনার ১৫ মাসের মাথায় রোববার যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক গোলাম কবির এ আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সেতারা খাতুন।
.png)
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নাজমুল হক ওরফে বান্দা আলী জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুলা ইউনিয়নের ঠাকুরকাঠি গ্রামের নওশের আলীর ছেলে।
নিহত রিক্তা খানম একই গ্রামের মুক্তার হোসেনের মেয়ে। শিশুটি স্থানীয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত মক্তবভিত্তিক শিশু শ্রেণির ছাত্রী ছিলো।
আদালত সূত্র জানায়, রিক্তা ও নাজমুল পাশাপাশি বাড়িতে থাকতেন। ২০২১ সালের ২০ নভেম্বর সকাল থেকে রিক্তাকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না স্বজনরা। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পুকুরে তল্লাশি চালানো হয়। ওই সময় নাজমুলকে তার বাড়ির পাশে একটি ফাঁকা স্থানে গর্ত খুঁড়তে দেখেন প্রতিবেশীরা। সেখানেই রিক্তার একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। নাজমুলকে জিজ্ঞাসা করলে পালিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিবেশীরা তাকে ধরে ফেলেন। পরে তিনি স্বীকার করেন রিক্তাকে ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ নিজ ঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখেন। লাশ ওই গর্তে পুঁতে রাখার চেষ্টা করছিলেন।
এ ঘটনায় রিক্তার বাবা মুক্তার আলী বিশ্বাস বাঘারপাড়া থানায় মামলা করেন। আটকের পর আদালতে সোপর্দ করা হলে হত্যা ও ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করে জবানবন্দি দেন নাজমুল। সে সময় থেকেই কারাগারে রয়েছেন তিনি।
এরমধ্যে মামলাটি তদন্ত করে ২০২২ সালের ১৭ মে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আওয়াল হোসেন। এ মামলায় ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রোববার বিচারক বাদী ও আসামির উপস্থিতিতে মামলার রায় ঘোষণা করেন।
আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম। এ রায়ে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।