শনিবার বেলা ১১টার দিকে প্রেসব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে, একইদিন ভোরে এ অভিযান চালায় ডিবি। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অপহরণের পর টর্চার সেলে নির্যাতন, মুক্তিপণ আদায়সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নগরীর হেতেমখাঁ এলাকার জোয়াদুল আহাদ খানের ছেলে অপহরণকারী চক্রের সদস্য আরেফিন আহাদ খাঁন সানি, আজাদ আলীর ছেলে মোস্তাক আহম্মেদ ফাহিম, নুরুজ্জামানের ছেলে পারভেজ এবং আলম সরকারের ছেলে সাব্বির সরকার।
পুলিশ জানায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে হেতেমখাঁ এলাকায় আরেফিন আহাদ খাঁন সানির বাড়িতে আটকে রাখা হয়। তাকে অপহরণ করতে সহযোগিতা করে সানির বন্ধু মোস্তাক আহম্মেদ ফাহিম। অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকার জন্য তাদের টর্চার সেলে দেলোয়ার হোসেনের উপর নির্যাতন চালানো হয়।
.png)
এরপর বিভিন্নভাবে অস্ত্রের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন তারা। দেলোয়ারের মোবাইল ফোন থেকে তার আত্মীয়দের অপহরণের বিষয়টি জানো হয়। উপায় না পেয়ে মুক্তিপণ হিসেবে দেলোয়ার তাদের ৫০ হাজার টাকা দেন। মুক্তিপণের বাকি টাকা প্রদানের শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ছাড়া পেয়ে দেলোয়ার হোসেন রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে অভিযোগ দেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে হেতেমখাঁ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে গ্রেফতার হয় ঐ অপহরণ চক্রের চার সদস্য।
এ সময় সানির বাড়ির ছাদের টর্চার সেল হতে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে দেশীয় অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায় করতেন। অপহরণের পর সনির বাড়িতে নিয়ে তাদের তৈরি করা টর্চার সেলে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। পরে অপহরণ করা ব্যক্তির মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আত্মীয়-স্বজনদের নিকট থেকে নগদ, বিভিন্ন ব্যাংকিং অ্যাপস এর মাধ্যমে মুক্তিপণ হিসেবে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতেন। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় অপহরণ ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।