ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
সীতাকুণ্ডে একরাম হত্যা

ছুরি চালিয়ে সটকে পড়েন ৩ জন, একজন হয়ে যান ‘সাহায্যকারী’

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২:০০, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩
ছুরি চালিয়ে সটকে পড়েন ৩ জন, একজন হয়ে যান ‘সাহায্যকারী’
ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা

ঘটনার দিন সকালে গোপন বৈঠক করেন হত্যাকারীরা। বৈঠকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন নূর আহাম্মদ। পরে সন্ধ্যায় মারধর ও ছুরিকাঘাত করে ফেলে যান রাস্তায়। ঘটনার পর সবাই পালিয়ে গেলেও লোকজন উপস্থিত হওয়ায় ‘সাহায্যকারী’ সেজে হাসপাতালে নেন জাহেদ। মূলত চাঁদা আদায়ে ব্যর্থ হয়েই নেয়া হয় হত্যার পরিকল্পনা।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অটোরিকশাচালক একরাম হোসেন হত্যার ঘটনায় নুর আহাম্মদ ও জাহেদসহ চারজনকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে এমনই তথ্য। এর আগে, বুধবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গ্রেফতার অন্য দুজন হলেন- মো. মোস্তাফিজুর রহমান সাকিব ও মো. ইসমাইল হোসেন রানা। তাদের বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।

Advertisement

গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার চারজনকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পিবিআই। শুনানি শেষে নূর আহাম্মদ ও জাহেদ হোসেনের চারদিন এবং সাকিব ও রানার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান বলেন, অটোরিকশাচালক একরাম হোসেন হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে নূর আহাম্মদ সীতাকুণ্ড দক্ষিণ বাইপাস সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। মূলত অটোরিকশা চালানোর পাশাপাশি চাঁদা আদায়ের জন্য এ সমিতি চালু করেন তিনি। অন্যরা অটোরিকশা চালানোর পাশাপাশি চাঁদা আদায়ে নূর আহাম্মদের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। এ লাইনে অটোরিকশা চালাতে হলে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা গুনতে হতো প্রত্যেক চালককে। একরামকেও চাঁদা দিতে চাপ দেন নূর আহাম্মদ। কিন্তু একরাম চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নূর আহাম্মদ ও তার সহযোগীরা মিলে একরামকে খুন করার পরিকল্পনা করেন।

বিশেষ পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান আরো বলেন, ঘটনার দিন সকাল ১১টায় সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড বাজারে গোপন বৈঠক করেন আসামিরা। সেখানে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন নূর আহাম্মদ। নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যা থেকে একরামের অটোরিকশা অনুসরণ করতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে একরামের অটোরিকশাটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড পৌরসভার মধ্যম মহাদেবপুর ইপসা অফিস এলাকায় পৌঁছালে নূর আহাম্মদকে বহনকারী অটোরিকশার মাধ্যমে সেটির গতিরোধ করা হয়। এরপর একরামকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করেন আসামিরা। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যান আসামি নূর আহাম্মদ ও সাকিব। আরেক আসামি রানাও দ্রুত পালিয়ে যান। তবে ঘটনাস্থলে লোকজন উপস্থিত হয়ে যাওয়ায় নিজেকে রক্ষার কৌশল হিসেবে ‘সাহায্যকারী’ সেজে একরামের অটোরিকশাটি চালিয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান আসামি জাহেদ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার এসআই মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, নিহত একরাম অটোরিকশাচালক হওয়ায় ঘটনার বিষয়ে একাধিক অটোরিকশাচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে দুই আসামি শনাক্ত হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে বাকি দুজনকেও গ্রেফতার করা হয়। চাঁদা না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে একরামকে হত্যা করেন বলে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে জানান তারা। শনিবার সকালে তাদের সীতাকুণ্ডে নিয়ে হত্যায় ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। রিমান্ডে থাকা চারজনের মধ্যে দুজনকে রোববার ও বাকি দুজনকে সোমবার আদালতে পাঠানো হবে। 

গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে নিজের অটোরিকশা নিয়ে বের হন একরাম হোসেন। একইদিন রাত সাড়ে আটটার দিকে সীতাকুণ্ড পৌরসভার মধ্যম মহাদেবপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আহত অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। পরে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনায় অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন একরামের ভাই নুরুল হুদা। থানা পুলিশের পাশাপাশি ঘটনাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে পিবিআই। পরে ২৬ জানুয়ারি মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে সংস্থাটি। এরপর নজরদারি ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করা হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!