ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

বিদ্যালয়ের মাঠে যুবকের লাশ, শরীর জুড়ে নৃশংসতা

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৫৩, ৯ জুন ২০২২
বিদ্যালয়ের মাঠে যুবকের লাশ, শরীর জুড়ে নৃশংসতা
নিহত রবিন- ফাইল ছবি

বগুড়ায় রবিন ইসলাম নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার সারা শরীরে নৃশংস আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া সদরের সাবগ্রাম ঘুনিয়াতলা এলাকায় ঘুনিয়াতলা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। বিকেলে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

নিহত রবিন সদরের ভাটকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম রফিকুল ইসলাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘুনিয়াতলা ও ভাটকান্দি পাশপাশি গ্রাম। বৃহস্পতিবার ঘুনিয়াতলা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান চলছিল। দুপুরে ঐ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা জোহরের নামাজ ও খাওয়ার জন্য যান। নামাজের বিরতির পর প্রতিষ্ঠানের ওয়াশরুমের পাশে কিছু শিক্ষার্থী চিৎকার শোনা যায়। তাদের চিৎকারে শিক্ষক ও স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে রবিনের ক্ষতবিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।

নিহতের স্বজনরা জানান, রবিনকে পরিকল্পিকভাবে হত্যা করা হয়েছে। রবিন আগে ভাটকান্দি গ্রামের মিঠু, রহমান, আতিকুল ও মাসুদ নামে যুবকদের সঙ্গে ঘোরাফেরা করতেন। তিন বছর আগে ফুটবল খেলা নিয়ে ভাটকান্দি গ্রামে নয়ন নামে একজন খুন হয়। সেই মামলায় রবিন, মিঠু, মাসুদসহ কয়েজকজনকে আসামি করা হয়। ঐ ঘটনার পর থেকে মিঠু, মাসুদদের সঙ্গে ঘোরাফেরা করা বন্ধ করে দেন রবিন। এতে তাদের মাঝে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এমনকি ঐ দ্বন্দ্বের জেরে বছর দুয়েক আগে মিঠু, রহমান ও মাসুদ দলবদ্ধ হয়ে কয়েকদফা রবিনের বাড়িতে হামলাও চালায়।

স্থানীয়রা জানায়, ভাটকান্দি গ্রামের মিঠু, রহমান ও আতিকুলরা বালুর ব্যবসা করে। গ্রামের নির্মাণাধীন বাড়িতে তারা বালু সরবরাহ করত। সম্প্রতি রবিনও বালুর ব্যবসা শুরু করেন। গ্রামের নির্মাণাধীন একটি বাড়িতে বালু দেওয়া নিয়ে মিঠু, মাসুদ, রহমানদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এরই জেরে তাকে হত্যা করা হতে পারে।

নিহতের বাবা জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে শাকিল ও আলিফ নামে দুজন বাড়িতে এসে রবিনকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে লোকমুখে খবর পান বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শরাফত ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!