ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

মানুষ তাড়িয়ে গ্রাম দখলে নিতে চায় শিয়াল 

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:২৯, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২
মানুষ তাড়িয়ে গ্রাম দখলে নিতে চায় শিয়াল 
শিয়ালের আক্রমণ। ফাইল ছবি

দিনের আলো নিভে গেলেই বাড়ি থেকে একা কেউ বের হতে পারছেন না। কয়েকজন একত্র হয়ে বের হতে হচ্ছে। তাও লাঠি হাতে, নিয়ে লড়াইয়ের প্রস্তুতি। গ্রামবাসীর চোখে-মুখ আতঙ্কের ছাপ। তাদের ওপর হতে পারে যেকোনো সময় আক্রমণ।

আক্রমণকারীদের মোকাবিলা করতে এখন সবার হাতে হাতে লাঠি। উভয়পক্ষে হতাহতের সংখ্যা অন্তত ৩৪। বাসস্থানের লড়াইয়ে নেমেছে দু’পক্ষ। নিতে চায় গ্রামের দখল।

তবে গ্রামবাসীর প্রতিপক্ষ মানুষ নয়; শিয়াল। গ্রামের ঝোঁপঝাড়ে ও জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা শিয়ালগুলো হঠাৎ করেই মানুষ দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়ছে, দিচ্ছে কামড়। গ্রামবাসীও পিটিয়ে মারছে শিয়ালগুলোকে।

এ যেন গ্রামবাসী ও শিয়ালদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই। এতে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত চারটি শিয়াল। আর তাদের (শিয়াল) কামড়ে আহত হয়েছেন বিভিন্ন বয়সের ৩০ জন মানুষ।

গত চারদিন ধরে এমন ঘটনা ঘটছে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউপির ক্ষুদ্র ফুলকোর্ট ও রামপুর গ্রামে। হামলার নেতৃত্ব দেয়া শিয়ালটিকে চিহ্নিত করা না গেলেও গ্রামবাসীদের দল নেতা স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম নয়ন। তার দিক নির্দেশনায় চলছে দুই গ্রামে শিয়ালদের বিরুদ্ধে লড়াই।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাতে ফুলকোর্ট গ্রামের চা স্টলে বসে আড্ডা দিচ্ছিনে পাঁচ-ছয়জন মানুষ। পাশের ঝোঁপ থেকে কয়েকটি শিয়াল বের হয়ে হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের ওপর। কামড়ে দেয় তাদের মধ্যে তিনজনকে। এর আগে এদিন ভোরে ফুলকোর্ট দক্ষিণপাড়া গ্রামের মসজিদ থেকে ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন চারজন। পথে তারা শিয়ালের আক্রমণের শিকার হন। তাদের মধ্যে তিনজনকে কামড়ে দেয় শিয়াল।

শিয়ালের কামড়ে আহত ওই তিনজন হলেন- সাইদুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও আব্দুর রহমান।

ফুলকোর্ট গ্রামের বাসিন্দা আব্দুন নূর মুন জানান, চারদিন ধরে ফুলকোর্ট ও রামপুর গ্রামে শিয়াল আক্রমণ করছে। দিনের আলো নিভে গেলেই তারা প্রবেশ করে লোকালয়ে। যখন যাকে সামনে পায় কামড়ে দেয়। তাদের মোকাবিলা করতে গ্রামের সবাই এখন হাতে লাঠি নিয়ে বের হন। গ্রামের অনেক মানুষ শিয়ালের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে গ্রামবাসীরা চারটি শিয়ালকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন। বর্তমানে শিয়ালের আক্রমণের ভয়ে আতঙ্কে আছেন গ্রামবাসীরা। শিয়াল গ্রামে কোন মানুষ সহ্য করতে পারছে না। তারা  (শিয়াল) গ্রাম থেকে মানুষ তাড়িয়ে দিতে আক্রমণ করছে!

স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম নয়ন জানান, শিয়ালের আক্রমণের শিকার হয়ে ৩০ জন আহত হয়েছেন। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। এছাড়াও অনেকে গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, গ্রামবাসীকে হাতে লাঠি রাখার কথা বলে দেয়া হয়েছে। তারা সন্ধ্যার পর ও ভোরে বাড়ি থেকে বের হলে হাতে লাঠি নিয়েই বের হন। এছাড়া বর্তমানে আমাদের আর কোনো উপায় নেই।

ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম নয়ন জানান, গ্রাম দুটির অনেক ঝোঁপঝাড় ও জঙ্গল কেটে বাড়ি-ঘর বানানো হচ্ছে। ফলে খাদ্য-বাসস্থান সংকট থেকেও শিয়াল আক্রমণ চালাতে পারে। এছাড়াও শিয়ালগুলো হয়ত জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়েছে।

হঠাৎ শিয়ালদের কেন এই আক্রমণ জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন মোছা. কানিস ফারজানা ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, বাসস্থান ও খাদ্য সংকটে থেকে শিয়ালরা মানুষের ওপর আক্রমণ করে। তবে ওই দুই গ্রামে কয়েকদিন ধরেই মানুষ দেখলেই আক্রমণ করছে শিয়াল। এতে আমরা ধারণা করছি শিয়ালগুলো জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়েছে। খাদ্য-বাসস্থানের সংকট থেকে শিয়াল আক্রমণ  করে। তবে সেই আক্রমণ কিছু সময়ের জন্য হয়ে থাকে, এভাবে দিনের পর দিন না।

বগুড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সাজ্জাদ-উল-হক ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, যেসব প্রাণী র‌্যাবিস জীবাণু বহন করে তাদের মধ্যে শিয়াল আছে। শিয়ালের কামড়ে মানুষ জলাতঙ্কে আক্রান্ত হতে পারে। এই প্রাণী যেখানে কামড় দিবে সঙ্গে সঙ্গে জীবাণুনাশক দিয়ে স্থানটি পরিষ্কার করতে হবে। কমপক্ষে ১৫ মিনিট ক্ষতস্থানে সাবান পানি দিয়ে ধুঁতে হবে। পরবর্তী হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসককে দেখাতে হবে। ভ্যাকসিন দেয়ার প্রয়োজন হলে চিকিৎসক জানাবেন। আর যদি ভ্যাকসিনের প্রয়োজন না হয় তাহলে শুধু অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন করতে হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: বগুড়া
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!