ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরলেন ৭ পুলিশ সদস্য

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৫৯, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২২
অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরলেন ৭ পুলিশ সদস্য
ফাইল ছবি

সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় বেকসুর খালাস পাওয়া সাত পুলিশ সদস্য কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আদালত থেকে মুক্তির আদেশ পৌঁছার পর গতকাল সোমবার রাতেই তারা কারামুক্ত হয়ে নিজ নিজ বাড়ি ফিরে গেছেন।

মুক্তি পাওয়া সাতজন হলেন- টেকনাফের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই মো. লিটন মিয়া, টেকনাফ থানার কনস্টেবল ছাফানুল করিম, মো. কামাল হোসাইন আজাদ, মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্য এসআই মো. শাহজাহান আলী, সদস্য আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ও মো. রাজীব হোসেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবদুল্লাহ আল মামুনের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। এএসআই লিটন মিয়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, সাফানুল করিম, কামাল হোসেন ও রাজীব হোসেনের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী, এসআই শাহজাহান আলীর বাড়ি জামালপুরের নরন্দি এবং মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদের বাড়ি ঢাকার আশুলিয়ায়।

গতকাল বিকেলে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল সিনহা হত্যা মামলার রায়ে টেকনাফ মডেল থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও টেকনাফের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন ইনচার্জ (আইসি) পুলিশ পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, এপিবিএনের কনস্টেবল সাগর দেব ও রুবেল শর্মা; টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের মারিশবুনিয়া গ্রামের তিন ব্যক্তি (পুলিশের সোর্স) নেজাম উদ্দিন, নুরুল আমিন ও মো. আইয়াজকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ওই ৬ আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত। বেকসুর খালাস পান মামলার অপর সাত আসামি।

আরো পড়ুন: স্কুলে যাওয়ার কথা বলে নিখোঁজ রূপজান, খোঁজ মিলল বান্ধবীর বাসায়

গতকাল রাতে ওসি প্রদীপ এবং লিয়াকতকে কারাগারের পৃথক কনডেম সেল এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত অপর ছয় আসামিকে সাধারণ ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক (জেল সুপার) মো. নেছার আলম। তিনি আরও বলেন, রায়ে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় সাতজনের মুক্তিনামা ইস্যু করে আদালত, তা কারাগারে পৌঁছানোর পর গতকাল রাতেই জেলা কারাগার থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রাতেই তারা নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করেন।

কক্সবাজার আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ফরিদুল আলম বলেন, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভের শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন সিনহা মো. রাশেদ খান। মামলার রায়ে আদালত বলেছে- সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের নির্দেশে এবং পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে সিনহার মৃত্যু হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত।

পিপি ফরিদপুর আলম বলেন, ৬৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও সাক্ষ্যপ্রমাণে প্রমাণিত হয়েছে যে সিনহা হত্যায় অভিযোগপত্রভুক্ত ১৫ জন আসামি জড়িত ছিলেন। কিন্তু আদালত সাতজনকে হত্যার দায় থেকে বেকসুর খালাস দিয়েছে। কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও খালাসপ্রাপ্তদের বিষয়ে তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!