৩০০ পৃষ্ঠায় সিনহা হত্যার রায় 

ঢাকা, সোমবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২,   ১২ আশ্বিন ১৪২৯,   ২৮ সফর ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

৩০০ পৃষ্ঠায় সিনহা হত্যার রায় 

কক্সবাজার প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৯ ৩১ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৬:০০ ৩১ জানুয়ারি ২০২২

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের আলোচিত সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার রায় পড়া শুরু করেছে আদালত। সোমবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা আড়াইটার কিছু আগে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইলএজলাসে বসেন। আসামিদের নাম ডাকার পর ৩০০ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু করেন বিচারক। 

এর আগে বেলা ২টায় একটি প্রিজন ভ্যানে করে ১৫ আসামিকে কারাগার থেকে কক্সবাজারের জেলা আদালতে নিয়ে আসা হয় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে। পরে লাইন ধরে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় এজলাস কক্ষে, দাঁড় করানো হয় কাঠগড়ায়।

এ মামলার প্রধান দুই আসামি হলেন- টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলী।

আরো পড়ুন: পড়া হচ্ছে ৩০০ পৃষ্ঠা রায়, কাঠগড়ায় আসামিরা

কাঠগড়ায় প্রদীপের পরনে দেখা যায় ধূসর জ্যাকেট। তার পাশেই দাঁড়িয়েছেন লিয়াকত। পুলিশের আরো সাত সদস্য, এপিবিএনের তিন সদস্য এবং টেকনাফের স্থানীয় তিন বাসিন্দা এ মামলার আসামি।

সিনহার বোন, মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসও তার স্বামীকে নিয়ে বেলা ২টায় আদালতে উপস্থিত হন।

সকালে এ মামলার রায় ঘোষণার কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে দুপুরে নেয়া হয়। রায়ের দিন থাকায় সকাল থেকেই বাড়ানো হয় আদালতের নিরাপত্তা। সকাল ৯টার আগেই আসামিদের কারও কারও আত্মীয়দের দেখা যায় আদালত প্রাঙ্গণে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সকালেই আদালতে প্রবেশের দুটি ফটকে অবস্থান নিয়ে সাত স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তুলেছেন। পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের সঙ্গে অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। অপ্রয়োজনীয় যানবাহন নিয়ে কেউ যেন প্রবেশ করতে না পারে সেটি দেখা হচ্ছে। বিচারপ্রার্থী ছাড়া কাউকে আজ আদালতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

আদালতের প্রবেশ পথ, জেলা প্রশাসক কার্যালয় এলাকা ও কাঁচা বাজার এলাকায় পুলিশের মোট ছয়টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

আরো পড়ুন: মেজর সিনহা হত্যার নেপথ্যে কী

আদালত এলাকায় ৮০ জনের মত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে সদর থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশের একটি দলকে ‘স্ট্যান্ডবাই’ রাখা হয়েছে।

সকালে আদালতে প্রবেশের সময় দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা ফটকে অবস্থান নিয়ে আছেন। কাউকে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা প্রবেশ করতে দিচ্ছেন। আদালতের ভবনগুলোর বিভিন্ন তলাতেও পুলিশের অবস্থান দেখা গেছে।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের শামলাপুর চেকপোস্টে গুলি করে হত্যা করা হয় সিনহা মো. রাশেদ খানকে।

তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর, যিনি স্বেচ্ছায় অবসর নেয়ার পর একদল তরুণকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ বিষয়ক তথ্যচিত্র বানানোর জন্য কক্সবাজারে গিয়েছিলেন।

ঐ হত্যাকাণ্ডের পর বেরিয়ে আসে, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কীভাবে বন্দুকযুদ্ধ সাজিয়ে খুন করে যাচ্ছিলেন পোশাকী বাহিনীর কর্মকর্তা প্রদীপ।

হত্যাকাণ্ডের পর ৫ অগাস্ট ওসি প্রদীপ দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ নয়জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন তার বোন।

সাড়ে চার মাস পর ১৩ ডিসেম্বর র‌্যাব-১৫ কক্সবাজারের তৎকালীন জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

পরের বছর ২০২১ সালের ২৭ জুন সব আসামির উপস্থিতিতে বিচারক ইসমাইল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

প্রায় দুই মাস পর ২৩ অগাস্ট বাদী শারমিন ফেরদৌসের সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। মামলায় মোট সাক্ষী ছিলেন ৮৩ জন। তার মধ্যে নয়জন প্রত্যক্ষদর্শীসহ ৬৫ জনের সাক্ষ্য নিয়ে রায় হতে যাচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএডি

English HighlightsREAD MORE »