ঢাকা,  রোববার   ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ঈদে বাবার বাড়ি যাওয়ার বায়না ধরায় স্ত্রীকে মেরেই ফেললেন স্বামী

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৩৫, ১৩ মে ২০২১
ঈদে বাবার বাড়ি যাওয়ার বায়না ধরায় স্ত্রীকে মেরেই ফেললেন স্বামী
নিহত সোনিয়া খাতুন

কুষ্টিয়ায় ঈদে বাবার বাড়ি যেতে চাওয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতন ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। বুধবার সকালে কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মঙ্গলবাড়িয়া এলাকায় আকবর অয়েল মিলের পেছনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সোনিয়া খাতুন সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের বড় আইলচারা গ্রামের ছয়ফল মণ্ডলের মেয়ে। তার স্বামী বিপুল হোসেন কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মঙ্গলবাড়িয়া এলাকার বিশু মণ্ডলের ছেলে। তাদের ১৩ মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় বিপুল-সোনিয়ার। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে কলহ লেগেই থাকত। কলহের জেরে প্রায়ই সোনিয়াকে মারধর করতেন স্বামী বিপুল। মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার সকালে ঈদে বাবার বাড়িতে যাওয়া নিয়ে স্বামীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় সোনিয়ার। এক পর্যায়ে বিপুলের মারধরে মৃত্যু হয় তার। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

নিহতের বাবা ছয়ফল মণ্ডল বলেন, বিয়ের পর থেকেই কারণে-অকারণে সোনিয়ার উপর নির্যাতন করত বিপুল। আমরা তাদের বাড়িতে গেলে বিপুল আমাদের অপমান করে তাড়িয়ে দিত। গত এক বছর আমরাও মেয়েকে দেখতে পারিনি, মেয়েও আমাদের কাছে আসতে পারেনি।

তিনি আরো বলেন, সোনিয়া এবার আমাদের বাড়িতে ঈদ করতে চেয়েছিল। এ কারণেই সোনিয়ার উপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আমরা খবর পাই সোনিয়া মারা গেছে। বিপুল ও তার পরিবারের লোকজন আমার মেয়েকে মেয়েকে নির্যাতন ও শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলেছে। আমি তাদের বিচার চাই।

অভিযুক্ত বিপুল হোসেন বলেন, সোনিয়া বাবার বাড়িতে ঈদ করার জন্য যেতে চেয়েছিল, কিন্তু আমার মা-বাবা রাজি হয়নি। এ নিয়ে দুইদিন ধরে সংসারে অশান্তি চলছিল। মঙ্গলবার রাতে আমি সোনিয়াকে মেরেছিলাম। এজন্য অভিমানে বুধবার সকালে সে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমি তাকে হত্যা করিনি।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শওকত কবির জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!