ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মৌসুমী ব্যবসায়ীদের প্রতারণার ফাঁদ, টার্গেট চরাঞ্চলের কৃষক

রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৫৯, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১
মৌসুমী ব্যবসায়ীদের প্রতারণার ফাঁদ, টার্গেট চরাঞ্চলের কৃষক
রংপুরের চরাঞ্চলে আলু চাষ

রংপুরে চরাঞ্চলের দরিদ্র কৃষকদের টার্গেট করে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। তারা কখনো কৃষক আবার কখনো রফতানিকারক সেজে নামমাত্র মূল্যে জমি লিজ নিয়ে আলু চাষ করছে। এতে রংপুর অঞ্চলে উৎপাদিত আলুর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দরিদ্র কৃষকরা। এ অঞ্চলে উৎপাদিত আলু রফতানিতে সরকারের দেয়া ২০ শতাংশ ভর্তুকি হাতিয়ে নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী এসব প্রতারক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আগাম আলু উঠেছে। সরকারিভাবে আলুর উৎপাদন খরচ কেজিতে ৮ টাকা নির্ধারণ করা হলেও সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠাতে রংপুরের গ্রামগঞ্জ থেকে বাছাই করে ভালো আলু ৭-৮ টাকা কেজিতে কিনে স্থানীয় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা প্যাকেটজাত করে দিচ্ছেন ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের হাতে। ১৫ টন আলু বিক্রি করে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা লাভ করছে পাইকাররা।

রংপুরের আলু চাষিদের লোকসান কমাতে গত বছর এক হাজার মেট্রিক টন আলু বিশেষ ব্যবস্থায় বিদেশে পাঠিয়েছে সরকারের কৃষি বিপণন অধিদফতর। এবার রফতানি হবে দুই হাজার মেট্রিক টন আলু। আগেই এ খবর জেনে বাইরের ব্যবসায়ীরা এ অঞ্চলে এসে শত শত হেক্টর জমি নামমাত্র মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে লিজ নিয়ে নিজেরাই আলুর চাষ করেছেন।

Advertisement

এবার মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে সরাসরি রফতানিকারকদের সঙ্গে আলু চাষিদের যুক্ত করে দেয়ার কথা জানিয়েছে রংপুর কৃষি বিপণন অধিদফতরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, উৎপাদন থেকে রফতানি পর্যন্ত অনেকগুলো হাত কাজ করে। আমরা কৃষকদের ন্যায্য মূল্য দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এবার মূল্য বিপর্যয় এড়াতে কৃষকদের আলু আবাদে নিরুৎসাহিত করেছিল কৃষি বিভাগ। ১৩ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের জন্য জমি কমিয়ে ৫১ হাজার হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের প্রতারণার কারণে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আলু চাষ হয়েছে সাড়ে ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!