ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

শেরপুরের ‘মধুটিলা ইকোপার্ক’ যেন প্রকৃতির সবুজ আঁচল

এম. সুরুজ্জামান, নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:০৮, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১
শেরপুরের ‘মধুটিলা ইকোপার্ক’ যেন প্রকৃতির সবুজ আঁচল
‘মধুটিলা ইকোপার্ক’

শেরপুর জেলার অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র নালিতাবাড়ী উপজেলার ‘মধুটিলা ইকোপার্ক’। প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে বর্তমান মৌসুমে সপ্তাহের প্রতিদিন প্রায় হাজারো দর্শনার্থী সমবেত হয়ে বনভোজন বা শিক্ষা সফর করে কর্মক্লান্তি ভুলে আনন্দচিত্তে ফিরে যান নিজগৃহে। তাই ইট, কাঠ, কংক্রিট আর পাথরে গড়া নগর জীবনের কোলাহল ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারেন এই পার্ক থেকে।

মহামারির ধকল কাটিয়ে এবারের শীত মৌসুমে ভ্রমণপিয়াসীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে ইকোপার্কটি। সীমান্তবর্তী এই পার্কের চারপাশে উঁচু-নিচু টিলা, কৃত্রিম লেক আর সবুজের সমারোহ দেখতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থী ও ভ্রমণ পিয়াসীরা ভিড় জমান। 

পার্কটি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তরে পোড়াগাঁওয়ের ময়মনসিংহ বন বিভাগের ব্যবস্থাপনায় ৩৮০ একর বনভূমিতে গারো পাহাড়ের মনোরম পরিবেশে ২০০০ সালে নির্মিত হয়। স্থাপনকাল থেকেই শীত মৌসুমে এই পার্কে পর্যটকরা ভিড় জমান। 

Advertisement

এই পার্কটির প্রধান ফটক পেড়িয়ে ভেতরে ঢুকতেই প্রথমে চোখে পড়বে সারিসারি গাছ। সড়কের ডান পাশে খোলা প্রান্তর আর দুইপাশে রকমারি পণ্যের দোকান। সামনের ক্যান্টিন পার হলেই পাহাড়ি ঢালু রাস্তা। এরপরই হাতি, হরিণ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, বানর, কুমির, ক্যাঙ্গারু, মৎস্য কন্যা, মাছ ও পাখির ভাস্কর্য। পাশের আঁকাবাঁকা পথে ঘন গাছের সারি লেকের দিকে চলে গেছে। তারপর কৃত্রিম লেকের উপর স্টারব্রিজ। লেকে পেডেলে বোটে চরে ঘুরাফেরার পর পাহাড়ের চুড়ায় পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে আরোহণ করলেই নজর কেড়ে নেয় চারপাশের উঁচু নিচু পাহাড় আর সবুজের সমারোহ। প্রকৃতির এই নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হন ভ্রমণ পিয়াসীরাও। 

কৃত্রিম লেক

এবারের বাংলা সনের ইজারাপ্রাপ্ত ইজারাদার রহমান ট্রেডার্সের প্রতিনিধি হামিদুর রহমান জানান, ইকোপার্কে ঢুকতে জনপ্রতি ১০টাকা, বড় বাস ৬০০ টাকা, মিনিবাস ৪০০ টাকা, মাইক্রোবাস ২০০ টাকা, মোটরসাইকেল ৩০ টাকায় টিকেট কাটার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে আলাদা আলাদা ফি দিয়ে প্যাডেল বোট চালানো, পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠা, শিশু পার্কে প্রবেশের সুযোগও রয়েছে। শুধু দিনের বেলায় ব্যবহারের জন্য ভ্যাটসহ ৪ হাজার ৭০২ টাকার বিনিময়ে পাহাড়ের চূড়ায় চার কক্ষ বিশিষ্ট শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) সুসজ্জিত মহুয়া নামের রেষ্ট হাউজ রয়েছে। এ রেষ্ট হাউজ ব্যবহার করতে চাইলে মধুটিলা রেঞ্জঅফিস, ময়মনসিংহ অথবা শেরপুর বন বিভাগ অফিসে বুকিং দিতে হয়। 

এছাড়াও এখানে রয়েছে ডিসপ্লে মডেল, তথ্যকেন্দ্র, গাড়ি পার্কিং জোন, ক্যান্টিন, মিনি চিড়িয়াখানা, বন্য প্রাণীর বিরল প্রজাতি পশু-পাখির ভাস্কর্য। আরো আছে জীবন্ত হরিণ, ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধক প্রজাতির গাছ এবং ফুলসহ বিভিন্ন রঙের গোলাপের বাগান। 

মধুটিলা ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জকর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, মহামারীর কারণে দীর্ঘদিন মধুটিলা ইকোপার্কটিও বন্ধ ছিল। এখন সরকারি সিদ্ধান্তে খুলে দেয়ায় এখানে প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা ভিড় জমাচ্ছেন। তবে আমরা দর্শনার্থীদের মহামারি থেকে নিরাপদে থাকতে মাস্ক পরিধান করতে উৎসাহিত করছি। 

মধুটিলা ইকোপার্ক

এই ইকোপার্কটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় এখান থেকে ভারতের দূরত্ব ১ কিলোমিটার। যুগ যুগ ধরে সীমান্তবর্তী এ পাহাড়ে গারো আদিবাসীরা বসবাস করে আসছেন। এখান থেকে খুব সহজে আদিবাসী গারোদের জীবনধারা ও সংস্কৃতি দেখারও সুযোগ রয়েছে।

রাজধানী ঢাকা থেকে মধুটিলা ইকোপার্কের দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহ হয়ে শেরপুর আসতে হবে। শেরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী বাজার পর্যন্ত সরাসরি যাতায়াত ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও শেরপুর থেকে ভাড়ায় সিএনজি অথবা মোটরসাইকেলে মধুটিলা ইকোপার্কে আসা যায়। অথবা নিজস্ব গাড়ীতে সরাসরি ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ হয়ে শেরপুর পৌঁছানোর আগে নকলা উপজেলা থেকে নালিতাবাড়ী উপজেলা সদর হয়ে ইকোপার্কে আসা সহজ হয়। সব মিলিয়ে শীত মৌসুম ছাড়াও সম্ভাবনাময় এই ইকোপার্কে প্রায় সারাবছরই দেশি-বিদেশি পর্যটক ও ভ্রমণ পিয়াসীদের ভীড় লেগেই থাকে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএস/এমআরকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!