হবু বরকে অপহরণ করে বান্ধবীর মুক্তিপণ দাবি
অপহরণের তিনদিন পর উদ্ধার হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবু হেনা মোস্তাফা কামাল মিলন। যশোরের অভয়নগরের নওয়াপাড়া থেকে তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার একতারপুর গ্রামের ইসহাক তরফদারের মেয়ের বাড়ি থেকে মিলনকে উদ্ধার করা হয়। তিনি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বারুইহাটি গ্রামের এমএ হাকিমের ছেলে।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মিলনের হবু স্ত্রীর বান্ধবীসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন- সাতক্ষীরার সুলতারপুর বড়বাজার এলাকার আজমল হকের মেয়ে সুরাইয়া, খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ফরমায়েসখানা গ্রামের মোড়লপাড়ার জমির সরদারের ছেলে মো. আব্দুস সালাম ও একই গ্রামের আলাউদ্দিন শিকদারের ছেলে শাহীন শিকদার।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আইনজীবী আবু হেনা মোস্তাফা কামাল মিলনের সঙ্গে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের এসএম হারুনুর রশিদের মেয়ে রাবেয়া সুলতানা রিতুর বিয়ে ঠিক হয়। এরই সূত্র ধরে ৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে খুলনা পাইওনিয়র কলেজের সামনে গিয়ে রিতুর সঙ্গে দেখা করেন মিলন। পরে তারা জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পার্কে ঘুরতে যান। ওই সময় রিতুর বান্ধবী সুরাইয়ার সঙ্গে তাদের দেখা হয়।
সুরাইয়া কৌশলে মিলনকে অভয়নগর উপজেলার একতারপুর গ্রামের ইসহাক তরফদারের মেয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে আইনজীবী মিলনকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন এবং মুক্তিপণ হিসেবে তার পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। দাবি করা টাকা না দিলে মিলনকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেন অপহরণকারীরা।
এ ঘটনায় ৮ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার তালা থানায় একটি জিডি করেন মিলনের বোন জামাই শরিফুল ইসলাম। একপর্যায়ে অপহৃতের পরিবার জানতে পারে মিলনকে যশোরের কোনো এক স্থানে আটকে রাখা হয়েছে। পরে তারা জিডির কপি নিয়ে যশোরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) যোগাযোগ করে। পিবিআই মোবাইল ফোন ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে জানতে পারে মিলনসহ অপহরণকারীরা অভয়নগর উপজেলার একতারপুর গ্রামে রয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে অভয়নগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় একতারপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে আইনজীবী মিলনকে উদ্ধার করে পিবিআই। এ সময় অপহরণকারী দলের নারী সদস্য সুরাইয়াকে আটক করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যমতে অপহরণকারী অপর দুই যুবককে দুপুরে খুলনা থেকে আটক করা হয়।
বাড়ির মালিক ইসহাক তরফদারের মেয়ে রাবেয়া সুলতানা মনি জানান, প্রায় এক মাস আগে সুরাইয়া ও আব্দুস সালাম স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে আমার বাড়ি ভাড়া নেন।
অভয়নগর থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম জানান, যশোর পিবিআইর সহযোগিতায় অপহৃত আইনজীবী আবু হেনা মোস্তফা কামাল মিলনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এক নারীসহ তিন অপহরণকারীকে আটক করা হয়।