লাশের সঙ্গে পাওয়া ভিজিটিং কার্ডে ধরা পড়ল খুনি
রেললাইনের পাশে পাওয়া যায় অজ্ঞাত নারীর লাশ। কিন্তু লাশটি শনাক্ত করতে না পারায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। তবে লাশটির সঙ্গে একটি ভিজিটিং কার্ড পাওয়া যায়। আর এ কার্ডটি থেকে মেলে নিহতের পরিচয়। একইসঙ্গে খুনিকেও শনাক্ত করা হয়। এমনই এক হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে নাটোর জেলা পুলিশ।
রোববার দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নাটোরের এসপি লিটন কুমার সাহা।
তিনি বলেন, ১৩ জানুয়ারি দুপুরে লালপুর উপজেলার সাদিপুর গ্রামে রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় লালপুর থানার পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে তিনটি দল।
.png)
লাশের সঙ্গে পাওয়া মোবাইল ফোন দোকানের ভিজিটিং কার্ডের সূত্র ধরে নিহতের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ। নিহতের নাম শম্পা খাতুন। তিনি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণপুর মহল্লার আব্দুর রহমানের মেয়ে।
এসপি বলেন, মুঠোফোন ট্র্যাক করে পুলিশ ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া, মানিকগঞ্জ, পাবনায় ব্যাপক অভিযান চালায়। গতকাল শনিবার গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় বাজার থেকে পাবনা সদর উপজেলার চকবারেরা গ্রামের ভানু শেখের ছেলে আনছার শেখকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে শম্পা খাতুনের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার আনছার শেখকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আনছার শেখ জানান, দুই বছর আগে শম্পা খাতুনকে বিয়ে করেন তিনি। ১৩ জানুয়ারি রাতে তাদের ঝগড়া হয়। এর জের ধরে ভোরে গোপালপুরের ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে যান শম্পা। রাগ ভাঙাতে স্ত্রীর পেছনে পেছনে স্বামীও যান। একপর্যায়ে সাদিপুর গ্রামে গিয়ে তারা রেললাইনের ওপর বসে কথা বলতে থাকেন। হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ওড়না পেঁচিয়ে শম্পাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন আনছার শেখ। এরপর স্ত্রীর ব্যবহৃত মুঠোফোনটি নিয়ে পালিয়ে যান তিনি।